Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দর্জির অ্যাকাউন্টে টাকা: ইডির স্ক্যানারে জব এজেন্সির মালিক 

দর্জির অ্যাকাউন্টে টাকা: ইডির স্ক্যানারে জব এজেন্সির মালিক 
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানে দর্জির অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার পিছনে দক্ষিণেশ্বরের এক ব্যক্তি ইডির নজরে রয়েছে। দর্জিকে জেরা করে তদন্তকারীরা ওই ব্যক্তির নাম জানতে পারে। দর্জির মোবাইল থেকে দক্ষিণেশ্বরের ওই ব্যক্তির সঙ্গে ইডি যোগাযোগ করে। তবে তিনি ফোনে জানান, বর্ধমানের ওই দর্জিকে তিনি চেনেন না। তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর জন্য কাউকে তিনি বলেনি। সেই টাকা তিনি নেননি। যদিও ইডি আধিকারিকরা তাঁর কথা বিশ্বাস করতে রাজি নয়। তাঁকে ইতিমধ্যেই স্ক্যানারে নেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তির জব এজেন্সি রয়েছে। তিনি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জায়গায় কাজ দেন। বর্ধমানের মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় রয়েছে। ওই দর্জির স্ত্রী বলেন, স্বামী কোনওদিনই বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। দক্ষিণেশ্বরের ওই ব্যক্তির কথা শুনেই বিপদে পড়েন। তাঁর কথাতেই ১০ লক্ষ টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে দেওয়া হয়। ওই অ্যকাউন্টটি সিল করা হয়েছে। ভাঙাকুঠির ওই ব্যাঙ্কের শাখা থেকে বাড়ি তৈরির জন্য লোন করেছিলাম। ২২ নভেম্বর থেকে অ্যাকাউন্ট সিজ হয়ে যাওয়ায় সেই টাকাও পরিশোধ করতে পারছি না। খুব সমস্যার মধ্যে রয়েছি।
Advertisement
অ্যাকাউন্ট সিজ হওয়ার বিষয়টি এতদিন পুলিসকে জানাননি কেন? সেই প্রশ্নের সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ব্যাঙ্কে জানিয়েছিলাম। কী কারণে অ্যাকাউন্ট সিজ করা হয়েছে তা তারা বলতে পারেনি।
এদিন সকালে বর্ধমানে লস্করদিঘির চালগদি এলাকায় ইডি অভিযান চালানোয় শহরে শোরগোল পড়ে যায়। সকাল ৭টা নাগাদ ইডি আধিকারিকরা ওই দর্জির বাড়িতে পৌঁছে যান। স্থানীয় পুলিসকেও তাঁরা কোনও কিছু জানায়নি। তখন ওই দর্জি ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকা আধিকারিকদের দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। তাঁর কাছে থেকে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য তাঁরা জানতে চান। কবে কত টাকা কোথা থেকে জমা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ নেয়। যদিও ওই দর্জির অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট ইডি আধিকারিকদের হাতে ছিল। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ৩৫ বছরের ওই যুবকের সঙ্গে এলাকার অনেকেরই সুসম্পর্ক নেই। দাদার সঙ্গেও তাঁর ভাল সম্পর্ক নেই। তাঁরা আলাদা থাকে। কুয়েত থেকে ফিরে আসার পর তিনি স্থায়ী কোনও কাজ করতেন না। দু’টি দোকান ঘর ভাড়া দিয়ে তাঁর অল্প আয় হতো। এছাড়া দর্জির কাজ করে কিছু টাকা আয় হয়। আচমকায় তাঁর বাড়িতে ইডির হানা হওয়ায় এলাকার লোকজনও অবাক হয়ে যান। তবে বাড়িতে তাঁকে বসিয়ে জেরা করার সময় ইডি আধিকারিকরা কাউকে কাছে ঘেঁষতে দেয়নি। তাঁর বাড়ির বিভিন্ন জায়গাতেও তল্লাশি চালানো হয়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য যাচা‌ই করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ