সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: আমতায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও খালি কন্টেনারের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হন ৪০ জন। আহতদের মধ্যে বাসচালকের মৃত্যু হয়েছে রবিবার রাতে, কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। মৃতের নাম বাসুদেব দে (৪১)। বাড়ি ঝিকিরা, রথতলায়। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, কন্টেনারটি ছিটকে পড়ে রাস্তার পাশে নয়ানজুলিতে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে, আমতা-রানিহাটি রোডে, আমতা ১০ নম্বর পোলের কাছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ যাত্রীবাহী বাসটি হাওড়ার দিক থেকে ঝিকিরার দিকে আসছিল। আর উল্টোদিক থেকে আসছিল একটি ফাঁকা কন্টেনার। আমতা ১০ নম্বর পোলের কাছে সঙ্গে বাস ও কন্টেনারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অন্যদিকে, ধাক্কার চোটে কন্টেনারটি রাস্তার পাশে নয়নজুলিতে উল্টে পড়ে। আহত হন প্রায় ৪০ জন।
দুর্ঘটনার পর আহতদের চিৎকারে ছুটে আসেন আশেপাশের লোকজন। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আমতা থানা ও চন্দ্রপুর ফাঁড়ির পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশকর্মীদের সাহায্যে আহতদের উদ্ধার করে আমতা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে বাস ও কন্টেনারের চালক সহ বাসের কন্ডাক্টরও ছিলেন। হাসপাতালে আহত ন’জন যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। কন্টেনারের চালক বিহারের বাসিন্দা মুন্না ঠাকুরের অভিযোগ, অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটি তার গাড়িকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। অন্যদিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর রাতেই আমতা হাসপাতালে পৌঁছন আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল। আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। রবিবার সকালে দু’টি ক্রেনের সাহায্যে নয়ানজুলিতে থেকে কন্টেনারটিকে সরানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ।