সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রেললাইনের অপর প্রান্তে বসবাসকারী বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা পরিস্রুত পানীয় জলের। এবার সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হল নবদ্বীপ পুরপ্রশাসন। এতদিন রেললাইনের নিচ দিয়ে পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রেলের অনুমোদন না মেলায় রেললাইনের অপর প্রান্তের বেশ কয়েক হাজার বাসিন্দা পরিস্রুত পানীয় জল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এবার দীর্ঘদিনের সেই জট কাটতে চলেছে।
নবদ্বীপ পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের মাঝামাঝি অংশ দিয়ে হাওড়া-ব্যান্ডেল ও কাটোয়া শাখার রেললাইন গিয়েছে। ফলে রেললাইনের অপর পাশে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষের কাছে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে হলে রেললাইন অতিক্রম করে পাইপলাইন নিয়ে যেতে হবে। আর সেই কাজের জন্য রেলের অনুমোদন প্রয়োজন। এবার পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলের আন্ডারপাস বা রেলগেটের নিচ দিয়ে পানীয় জলের পাইপলাইন নিয়ে যাওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে রাজ্যস্তরে আলোচনা হয়েছে। রেলের কাছেও অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ১ নম্বর, ১৬ নম্বর, ১৮ নম্বর ২০ নম্বর ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ উপকৃত হবেন বলে আশা করছে পুরপ্রশাসন। এরই সঙ্গে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চারটি নতুন ওভারহেড রিজার্ভার বা জলাধার নির্মাণ করা হবে। পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ড সংলগ্ন এলাকায়, বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম চত্বরে, প্রফুল্লনগর হেলথ সেন্টার চত্বরে এবং প্রাচীন মায়াপুর জলপ্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় জলাধারগুলি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি জলাধারের জলধারণ ক্ষমতা হবে প্রায় ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ কিলোলিটার। রেললাইনের অপর প্রান্তে বসবাসকারী পরিবারগুলির কাছে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে প্রায় ৭০ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৮৬ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
নবদ্বীপের ১৪ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কানাই মজুমদার, প্রবীর দাস, নির্মল দাস , বাবলু বিশ্বাস ও পার্থ মিত্ররা বলেন, এতদিন কেউ এই সমস্যা সমাধানে তেমনভাবে এগিয়ে আসেনি। বর্তমানে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দ্রুত সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাগানের বাসিন্দা তথা নবদ্বীপ বিধানসভা এলাকার বিজেপির কনভেনর শশধর নন্দী বলেন, আমরা বারবার পুরসভার কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছি। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা তথা নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দীকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্যাটি সমাধানের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপার্ট শাশ্বত বিশ্বাস বলেন, রেললাইনের অপর প্রান্তে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দাদের টিউবওয়েল বা বিকল্প জলের উৎসের উপর নির্ভর করতে হয়। সমস্যার সমাধানে রাজ্য সরকারের আরবান ডেভেলপমেন্ট ও মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের ‘ আম্রুত ২.০’ প্রকল্পে একটি ডিপিআর তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পে প্রায় ৭০ কিলোমিটার জল সরবরাহের পাইপলাইন বসানো এবং চারটি ওভারহেড রিজার্ভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।রেললাইনের নিচ দিয়ে পাইপলাইন নিয়ে যেতে দু’টি জায়গায় জ্যাক পুশিং সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। ডিপিআর তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম সহ রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত ডিপিআর জমা দেওয়া হবে।
নবদ্বীপ পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সঞ্জীব কুমার রাহা বলেন, রেলের অনুমোদন মিললেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। আমরা আশাবাদী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।