নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: প্রখর গ্রীষ্মে জল সঙ্কটের ছবি নতুন কিছু নয়। মাঝেমধ্যে চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে অতিরিক্ত জলের ট্যাঙ্ক পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় বিভিন্ন পুরসভাকে। কিন্তু ভরা বর্ষাতেও পিছু ছাড়ছে না জলের সঙ্কট! উত্তর শহরতলির একাধিক পুরসভা এখন এই সমস্যায় জেরবার। কোথাও পর্যাপ্ত পরিমাণ জল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কোথাও আবার ঘোলা জল যাচ্ছে, যা পানের অনুপযুক্ত। মানুষ বাধ্য হয়ে বাজারের বোতলবন্দি জল কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এই সঙ্কটের কারণ কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর প্রধান কারণ গঙ্গা! প্রচুর পরিমাণে পলির পাশাপাশি এই সময় ডিভিসির ছাড়া লালচে জল মিশছে গঙ্গায়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই জল সঠিকভাবে শোধন করা যাচ্ছে না। দক্ষিণ দমদম, বরানগর, কামরহাটি পুরসভা এলাকায় এই সমস্যা সর্বাধিক। পার্শ্ববর্তী দমদম, উত্তর দমদম, পানিহাটিতে অল্পবিস্তর শুরু হয়েছে এই সমস্যা।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে নতুন করে তৈরি হয়েছিল বাঙ্গুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এখান থেকে দক্ষিণ দমদমের ১৯, ২০, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর ছাড়াও আরও কয়েকটি ওয়ার্ডে জল সরবরাহ হয়। গত চারদিন এই ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে জলের জোগান কমে গিয়েছে। দিনে চারবার জল দেওয়া হতো। বর্তমানে রাতের জল সরবরাহ বন্ধ। সকালে ঠিক সময় মতো জল দেওয়া গেলেও দুপুর ও বিকেলে পর্যাপ্ত জল দেওয়া যাচ্ছে না। একই সমস্যা শহরের বাকি ওয়ার্ডেও। প্রতিদিন পুরসভার তরফে কমবেশি ৩০-৩৫টি জলের ট্যাঙ্ক জল পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বরানগর ও কামারহাটি পুরসভার পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন। এই দুই পুরসভায় ঘোলা জলের পাশাপাশি জল দেওয়ার সময়ও কমে গিয়েছে। বরানগরে সকাল, দুপুর ও রাতে তিন ঘণ্টা করে জল দেওয়া হতো। বর্তমানে প্রত্যেক বেলায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে জল দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘোলা জলের সমস্যা। কামারহাটিতেও চার বেলাই জল দেওয়ার সময় কমেছে। রয়েছে ঘোলা জলের সমস্যাও। একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘বছরের বিভিন্ন সময় গঙ্গার জলে মিশে থাকা কণা (ওয়াটার টারবিডিটি ১০০-১৫০এনটিইউ) বিভিন্ন থাকে। বর্তমানে বর্ষার জল নদীতে ঢোকায় তা দুই থেকে তিনগুন বেড়ে গিয়েছে। তার উপর ডিভিসির ছাড়া লালচে জল মিশছে গঙ্গায়। ওই জল ট্রিটমেন্ট প্লান্টে অনেক বেশি সময় রাখতে হচ্ছে, যাতে জলে মিশ্রিত কণা নীচে থিতিয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ওই জল দ্রুত পরিশোধন করতে গেলে ফিল্টার নষ্ট হচ্ছে। জল পরিশোধনের জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিকের পরিমাণ বাড়ালে পিএইচ বাড়ছে, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়। তাই জল সরবরাহ বাড়াতে গেলে ঘোলা জল যাচ্ছে।’
দক্ষিণ দমদমের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্ত এই সমস্যা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘আমরা কেএমডিএ’র দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারদের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য বলেছি।’
বরানগর পুরসভার সিআইসি (জল) অমর পাল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গায় জলের ট্যাঙ্ক পাঠাচ্ছি। ইঞ্জিনিয়াররা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।’