সংবাদদাতা, সিউড়ি: গরম পড়তেই সিউড়ি পুর এলাকায় পানীয় জলের ব্যাপক সঙ্কট শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুরসভার উদ্যোগে জল সমস্যার সমাধানে আম্রুত প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। সেই কারণে শহরের নয় নম্বর ওয়ার্ডে থাকা বহু পুরনো ওভারহেড ট্যাঙ্ক ভেঙে নতুন ট্যাঙ্ক তৈরি হচ্ছে। পুরনো ট্যাঙ্কটি ভেঙে ফেলায় ময়ূরাক্ষী নদী থেকে বোরিং করা জল সরাসরি পাইপ লাইনে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বেশ কিছু ওয়ার্ডে। তবে সব জায়গায় সমান ভাবে জল পৌঁছনোয় সমস্যা হচ্ছে। ফলে আগামী খরা মরশুমে জলের সঙ্কটে পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে। সিউড়ি পুরসভা জল সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শহরবাসীকে সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছে। পুরসভার দাবি, নতুন জল প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে শহরের পানীয় জলের সমস্যা সিংহভাগ মেটানো সম্ভব হবে। কিন্তু তার মধ্যেই হঠাৎ গরম পড়ায় পানীয় জলের সঙ্কট শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ।
সিউড়ি শহরের বেশ কিছু এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভা এলাকার দুই নম্বর, তিন নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক, ১৮ নম্বর, ১৭ নম্বরের একটি অংশ এবং পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা এলাকায় যুক্ত হওয়া বেশকিছু এলাকায় জলের সঙ্কট রয়েছে। অভিযোগ, প্রতি গ্রীষ্মেই স্থানীয় মানুষ পানীয় জলের সমস্যার অভিযোগ তোলেন। পুরসভা সাময়িক পরিস্থিত সামাল দিতে পারলেও স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি। পুরনো জলকষ্ট রয়েইছে। তার ওপর আম্রুত প্রকল্পের কাজের জন্য সিউড়ির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পুরনো পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে ফেলা হয়েছে গত দিন সাতেক আগে। সেখানে নতুন ট্যাঙ্ক তৈরি হবে। কিন্তু এই জলের ট্যাঙ্ক থেকে এলাকার তিন-চারটি ওয়ার্ডে জল সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে সেই ট্যাঙ্কটি ভেঙে ফেলায় নদী থেকে সরাসরি পাইপ লাইনে জল দেওয়া হচ্ছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে ১৭টি বোরিং থেকে মেশিনের মাধ্যমে জল দেওয়া হতো। গ্রীষ্মের জলের সমস্যা মোকাবিলার জন্য আরও তিনটি অতিরিক্ত বোরিং করা হয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি জল আসছে শহরে। এই গ্রীষ্মে আগাম জলের সঙ্কট আশঙ্কা করে বিকল্প পরিকল্পনাও নিয়েছে পুরসভা। কোনও এলাকায় বেশি সমস্যা হলে ট্যাঙ্কের মাধ্যমে জল পাঠানো হবে এলাকায়।
অন্যদিকে এই জলকষ্টের মধ্যে সিউড়ির বেনেপুকুর পাড়া, সোনাতোর পাড়া, লালকুটি পাড়া সহ বেশকিছু এলাকায় রাস্তার কলের ট্যাপ না থাকায় বিপুল পরিমাণ জল পড়ে নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে বেনেপুকুর পাড়ার ১-এর পল্লি মোড় থেকে মৌমাছি কালীমন্দির যাওয়ার রাস্তায় এই সমস্যা বেশি বলে অভিযোগ।
পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, সিউড়ি শহরের জলের সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটানোর জন্য আম্রুত প্রকল্প শুরু হয়েছে। গরম পড়তেই আগের মতো কিছু এলাকায় সমস্যা অবশ্যই রয়েছে। তারপর ট্যাঙ্ক ভেঙে ফেলার জন্যও জল সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। এর জন্য তিনটি নতুন বোরিং করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজও চলছে। শহরের ২০ শতাংশ এলাকায় সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা রাখছি। শহরবাসীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি।