বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার জন্য পাইপলাইন পাতার কাজ শুরু হয় কয়েকবছর আগে। সেই কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও কয়েক হাজার বাড়িতে জল পৌঁছয়নি। ফলে আশুতি ১, আশুতি ২, চট্টা এবং রসপুঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের বক্তব্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই কাজ শুরু হয়। সেই সময় বলা হয়েছিল, দেড় বছরের মধ্যে বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে। সেই সময়সীমা আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে। জল পায়নি অনেক পরিবার।
জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লকের মোট ‘হাউসহোল্ড’ ২৮ হাজার ৮০৭। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত (২০২৫ সালের এপ্রিল) পানীয় জলের পাইপলাইনের সংযোগ দেওয়া হয়েছে ২২ হাজার ৭৭০টি ক্ষেত্রে। কিন্তু সংযোগ দেওয়া হলেও প্রতিদিন জল পাচ্ছে মাত্র ১০ হাজার ৮৭৭টি পরিবার। ১১ হাজার ৮৯৩টি ক্ষেত্রে পাইপের সংযোগ থাকলেও জল যাচ্ছে না। এর বাইরে এখনও ৬ হাজার ৩৭টি পরিবারে পাইপের সংযোগ দেওয়ার কাজই হয়নি। কেন এই অবস্থা? জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা গিয়েছে। এই এলাকায় জল সরবরাহের জন্য দরকার ১৬টি ওভারহেড জলাধার। এর মধ্যে ১৪টি হয়েছে। বাকি ২টির মধ্যে খানবেড়িয়ায় জলাধারের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ হয়নি বলে চালু করা যাচ্ছে না। আরও একটি জলাধার হবে শিবরামপুরে। সেটির কাজ শুরু হয়নি। যে ১৪টি ওভারহেড জলাধারের সঙ্গে পাম্প হাউস তৈরি হয়েছে, তা চালানোর জন্য আবার স্থায়ী কর্মী নিয়োগ হয়নি। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের লোকজন ঠেকা দেওয়ার মতো করে কাজ চালাচ্ছেন। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দিনে একবার মাত্র জল সরবরাহ হচ্ছে। সকাল-বিকেল জল মিলছে না।
ওই সরকারি আধিকারিক আরও বলেন, ‘পাম্প হাউস তৈরির সময় কোনও খাস জমি পাওয়া যায়নি। ফলে রায়ত সম্পত্তি নিতে হয়েছিল। শর্ত ছিল, জমিদাতার পরিবারের একজনকে পাম্প চালানোর জন্য নিয়োগ করা হবে। সেই নিয়োগ হয়নি। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য বিভাগের ঠিকাদাররা ঠিকমতো খরচ পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে জটিলতা চলছে।’