নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ট্যাপকল থেকে সরু সুতোর মতো জল পড়ছে। বহুতল আবাসনে জলের সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। গরম পড়লেই জল সঙ্কটের পরিচিত ছবি ফিরে আসে দক্ষিণ দমদমে। চলতি বছরেও সেই সঙ্কট কাটার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই সঙ্কটের প্রথম কারণ কেএমডিএর প্রকল্প থেকে কম পরিমাণে জল আসা। দ্বিতীয় কারণ হল পরিকাঠামোগত সমস্যা। নতুন ওভারহেড রিজার্ভার ও পাইপলাইন পাতার কাজ শুরু হলেও আগামী ছ’মাসের মধ্যে সেই কাজ শেষ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে এই কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ দমদমের পানীয় জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করছে পুর কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, কেএমডিএ’র ট্রান্স মিউনিসিপ্যাল ওয়াটার প্রজেক্ট থেকে দমদমের তিনটি পুরসভার বড় অংশে জল সরবরাহ করা হয়। গঙ্গার নাব্যতা কমে যাওয়ায় বছর বছর পুরসভাগুলিতে জল সরবরাহের পরিমাণ কমছে। দক্ষিণ দমদম পুরসভা এই প্রকল্প থেকে ২০১৭ সালে ১০ এমজিডি করে জল পেত। তা কমতে কমতে ২০২৪ সালে ৭.৮৬ এমজিডিত এসে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভা পাম্প বসিয়ে ভূগর্ভস্থ জল তুলতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ দমদমের কিছু অংশে টালা ও বাঙুরের জল আসে। পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে জল সরবরাহের পাইপলাইন এবং ওভারহেড রিজার্ভারের পরিকাঠামো বহু পুরনো। তাই বহু পাড়ায় জল ঠিকঠাক পৌঁছয় না। কোথাও জলের চাপ কম থাকায় সরু সুতোর মতো জল পড়ে। একই সমস্যা রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার অনেক ওয়ার্ডে। তাই শহরবাসীদের একটা বড় অংশ কেনা পানীয় জলের উপরই নির্ভরশীল। সেই সঙ্গে ব্যাঙের ছাতার মতো যেখানে সেখানে গজিয়ে উঠছে জলের অবৈধ কারখানা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাগা কলোনি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রমোদনগরে ওভারহেড রিজার্ভার তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাইপলাইন পাতার জন্য ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে। এছাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের হেলথের মাঠে ও ১১নম্বর ওয়ার্ডে রিজার্ভার তৈরির প্রকল্প পাঠিয়েছে পুরসভা। ওই কাজ সম্পন্ন হলে জল সরবরাহের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদমের বাঙুর ও লেকটাউন এলাকার ১০টি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ হয়। কিন্তু পুরসভার বাকি ২৫টি ওয়ার্ডে গঙ্গার পরিস্রুত জল এবং ভূগর্ভস্থ জল মিশিয়ে সরবরাহ করা হয়। পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ (জল) মৃন্ময় দাস বলেন, ‘শহরে এখনও জলের সঙ্কট নেই। বাঙুর জলপ্রকল্প থেকে জল নিয়ে আসতে শুধুমাত্র পাইপলাইন সংযোগের কাজ বাকি। সেই কাজ শেষ করতে ছয় থেকে সাত মাস লাগবে। ওই কাজ শেষ হলে সমস্যা মিটে যাবে।’