সংবাদদাতা, ঘাটাল: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন, বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান সেই বীরসিংহ গ্রামের বাসিন্দারাই তীব্র পানীয় জলের সঙ্কটে ভুগছেন। বিগত ১০-১২ দিন ধরে তাঁরা পানীয় জল পাচ্ছেন না। বিষয়টি বার বার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামের বাসিন্দারা। বীরসিংহ গ্রামে পানীয় জলের সঙ্কটের কথা জানতে পেরে অপ্রস্তুতে পড়েছেন ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি তথা তৃণমূলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ কর। তিনি বলেন, ওই গ্রামে পানীয় জলের সঙ্কটের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি অবিলম্বে সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।
বিদ্যাসাগরের গ্রামটিকে আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলার জন্য ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরবচ্ছিন্ন ফোকাস দিয়ে রেখেছেন। সেই ফোকাসেরই ফসল বীরসিংহ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। ওই গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বীরসিংহের বিষয়ে এত গুরুত্ব দিচ্ছেন এর ফলে আমরা খুব খুশি। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে বীরসিংহ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার রাস্তাঘাট পানীয় জল নিয়ে অভিযোগ রয়েই গিয়েছে। বিদ্যাসাগরের জন্মভিটের পেছনেই ঘোষপাড়া এবং সাঁতরা পাড়া রয়েছে। ওই দুই পাড়ার বাসিন্দারা জানালেন, গ্রামে বাড়ি বাড়ি বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের জন্য অনেক দিন আগেই পাইপলাইন বসানোর কাজ হয়ে গিয়েছে। একটি জলাধারও রয়েছে। তা সত্ত্বেও গরমের সময়ে ওই দু’টি পাড়ার বাসিন্দারা পানীয় জল পাচ্ছেন না। বীরসিংহের বাসিন্দা গৌতম ঘোষ, অরূপ সাঁতরা, বিজয় মালিক প্রমুখ বলেন, বাড়িতে বাড়িতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও সেই ট্যাপ দিয়ে জল পড়ে না। ফলে আমাদের অন্য জায়গা থেকে পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ওই গ্রামে পানীয় জল সরবরাহের কোনও সমস্যা নেই। বেশ কিছু পরিবার নিয়ম বিরুদ্ধভাবে পাইপ লাইনের সঙ্গে মিনি পাম্প জুড়ে রেখেছেন। ফলে যাদের দূরবর্তী এলাকায় বাড়ি, স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা পর্যাপ্ত পানীয় জল পাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করলে, আমরা মিনি পাম্পের কানেকশনগুলি কেটে নিয়ে পাম্প বাজেয়াপ্ত করে দিতে পারি। গ্রামবাসীরা বলেন, কিছু পাইপ ফাটা রয়েছে সেগুলিও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর ঠিক করে দেয়নি। জল না পাওয়ার এটাও একটা বড় কারণ।