Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গরমের মুখে পানীয় জলের সঙ্কট, দ্রুত সমাধানের দাবি

ফলে, ওই সকল এলাকায় জল সঙ্কট একপ্রকার রোজনামচা হয়ে দাঁড়িয়েছে

গরমের মুখে পানীয় জলের সঙ্কট, দ্রুত সমাধানের দাবি
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: প্রায় এক বছর ধরে মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের আয়েসবাগ, চুনাখালি, ফুলবাগান, শ্রীশনগর, কুমোরপাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পিএইচই’র জল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে, ওই সকল এলাকায় জল সঙ্কট একপ্রকার রোজনামচা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীকে বাধ্য হয়ে জল কিনে খেতে হচ্ছে, নতুবা দুই-আড়াই কিলোমিটার দূরে মোতিঝিল, লালবাগ থেকে জল নিয়ে আসতে হচ্ছে। জল সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্থানীয় জল ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো। অভিযোগ, জল কারবারিরা এলাকায় জল সঙ্কটের সুযোগে প্রতি জার জল অনেকটাই বেশি দামে বিক্রি করছেন। স্বাভাবিকভাবে সঙ্কট মোকাবিলায় খুব শীঘ্রই জল সরবরাহ চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলা পিএইচই’র আধিকারিক রথীন সরকার বলেন, নতুন প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দিতে কাজ চলছে। সেই কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। তবে এক বছর নয়, পুজোর পর থেকে সমস্যাটা হয়েছে। অবশ্য বিক্ষিপ্তভাবে কিছু কিছু এলাকায় জল পৌঁছচ্ছে। বাকি কাজ শেষ করতে জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে কাজ চলছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই বাকি এলাকাগুলিতে জল পৌঁছে দিতে পারব। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,  আয়েসবাগ, ফুলবাগান, শ্রীশনগর, মুড়াগোয়ার, চুনাখালি, কলতলা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েক হাজার পরিবার পানীয় জলের জন্য পিএইচই’র ট্যাপকলের উপর নির্ভরশীল। গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দিতে প্রায় এক বছর আগে রাস্তার পাশে থাকা পুরনো ট্যাপকলগুলি তুলে ফেলে নতুন পাইপ পোঁতার কাজ শুরু হয়। স্বাভাবিকভাবেই তখন থেকেই জল সঙ্কট শুরু হয়। জল সরবরাহ বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ পরিবার জল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আর্থিক সঙ্গতি নেই, এমন কিছু পরিবারকে জল আনতে কয়েক কিলোমিটার দূরের মোতিঝিল, লালবাগে যেতে হচ্ছে। ফুলবাগানের বাসিন্দা অশোক পাল বলেন, এলাকায় টিউবওয়েল থাকলেও আর্সেনিকের মাত্রা বেশি থাকায় তা ব্যবহারের অযোগ্য। এদিকে প্রতিদিন রান্না, খাওয়ার জন্য অনেকটাই জল প্রয়োজন। অতটা পরিমাণ জল কেনার মতো আর্থিক সঙ্গতি এখানকার বেশিরভাগ পরিবারের নেই। জল আনতে সাইকেল ঠেঙিয়ে মোতিঝিলে যেতে হচ্ছে। এতদিন ধরে এখানকার মানুষ জল পাচ্ছেন না তাতে কারও কোন হেলদোল নেই। আর এই সুযোগ নিয়ে জল কারবারিরা সকাল থেকেই পৌঁছে যাচ্ছে দুয়ারে দুয়ারে। বাজারের বাজেট কাটছাঁট করে নিত্যদিন জল কিনতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর সমস্যা মেটাতে দ্রুত জল সরবরাহ শুরু হোক। শ্রীশনগরের বাসিন্দা লালী সরকার বলেন, প্রায় এক বছর ধরে জল পাচ্ছি না। রাস্তার টিউবওয়েলের জল খাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে জল কিনে খেতে হচ্ছে। আরও কতদিন কিনতে হবে কে জানে! আয়েশবাগের বাসিন্দা সুব্রত নন্দী বলেন, গরম পড়তেই জলের হাহাকার শুরু হয়েছে। আর কিছুদিন পরে উষ্ণতার পারদ চড়তে শুরু করলেই সমস্যা আরও বাড়বে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জলের সমাধান করা হোক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ