Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জামুড়িয়ার পানীয় জল সংকটের ক্ষোভ সামলে গড় রক্ষাই চ্যালেঞ্জ হরেরামের

পাঁচ বছরে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেও পানীয় জলের প্রবল সংকট জামুড়িয়াজুড়ে। একুশে যা ছিল তৃণমূলের শক্তি এবার সেটাই পথের কাঁটা।

জামুড়িয়ার পানীয় জল সংকটের ক্ষোভ সামলে গড় রক্ষাই চ্যালেঞ্জ হরেরামের
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: সালটা ২০২১। তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিং সরব এলাকায় অনুন্নয়ন নিয়ে। দেখে বোঝার উপায় নেই, তিনি রাজ্যের শাসক দলের প্রার্থী। সেবার জামুড়িয়ায় ৪৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন এই শ্রমিকে নেতা। পাঁচ বছরে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেও পানীয় জলের প্রবল সংকট জামুড়িয়াজুড়ে। একুশে যা ছিল তৃণমূলের শক্তি এবার সেটাই পথের কাঁটা। বর্ষীয়ান বিধায়কও বুঝেছেন জল নিয়ে মানুষের ক্ষোভ কাটানোই তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই সব বুথে ঘুরছেন তিনি। জোড়হাত করে বলছেন, পাঁচ মাসের মধ্যেই জামুড়িয়ায় জল সংকট মিটবে। না হলে আর কোনওদিন ভোট চাইতে আসবেন না। হরেরামের কথায় জনতা জনার্দ্দনের মন ভিজল কি না, উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।

Advertisement

শিল্পাঞ্চলে এখন খর চৈত্রের কাঠফাটা রোদ। ইস্ট সাতগ্রাম ফ্রি প্রাইমারি স্কুলের অদূরে পাশেই একটি বাড়িতে ঘরোয়া আলোচনা করছিলেন বিধায়ক। এলাকাটি সাতগ্রাম ফাটক নামেই পরিচিত। অবাঙালি এলাকা। হরেরাম হিন্দি ভাষায় বোঝাচ্ছেন। বলছেন, দিদির প্রকল্পের সুবিধা বিহারি, গুজরাতি সবাই পান। সবার অ্যাকাউন্টেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকে। তাঁদের মধ্যে একজন প্রশ্ন করে বসলেন, এলাকায় পানীয় জল নেই। খানিক থমকে জামুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক উত্তর দিলেন, পাঁচ মাস সময় দিন। বলেই বিদায়ী বিধায়ক বেরিয়ে গেলেন। পিছু পিছু এলেন বিনোদ ঠাকুর, দিলীপ গুপ্তারা। সামনের একটি রাস্তা দেখিয়ে বললেন, প্রখর গরমেও রাস্তাটি জলে ডুবে। দু’দিন আগে অল্প বৃষ্টিতেই এই অবস্থা। বর্ষাকালে এক গলা জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। 
শ্রীপুরের ইমলি ধাওড়াতে গত বিধানসভা ভোটে লিড পাননি হরেরাম। সেখানে প্রচারে এসে তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে আপনাদের ভোট পাইনি। তবু জাতীয় সড়ক থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত নতুন রাস্তা করে দিচ্ছি। জল সংকটও মিটিয়ে দেব।: 
১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই জামুড়িয়ার বোগরা চটি এলাকা। সেখান থেকে দেদার জল বিক্রি চলে। এক জল বিক্রেতা জনেশ কুণ্ডু। তিনি বলছিলেন, ‘কুড়ি লিটারের এক জার জল ২৫ টাকায় বিক্রি করছি। এখন যা জল সংকট ৪০ টাকা দামেও বিক্রি করতে পারি। মানুষ তাও নিতে বাধ্য হবে। কিন্তু ওই টাকা ধর্মে সইবে না।’ এটাই জামুড়িয়ার বাস্তব চিত্র। বিধানসভা জুড়ে চলছে জলের হাহাকার। বীজপুর থেকে জামুড়িয়া বাজার। সাতগ্রাম থেকে নিঘা, চাঁদা, শ্রীপুর সর্বত্র পানীয় জলের সংকট। ভাস্কর দাসও বোগড়া চটির বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘একটু পানীয় জল দিতে পাচ্ছে না সরকার। ঩সিপিএমের বিরাট পার্টি অফিসের দিকে তাকিয়ে বলেন, এরাই মন্দের ভালো ছিল। হরেরাম জানেন, জামুড়িয়ার মাটিতে বিজেপির সাংগঠনিক ক্ষমতা দুর্বল। অন্যদিকে, এক সময়ে সিপিএমের সংগঠন থাকলে বামেরা যে ফিরবে, সেই আশা নেই এলাকাবাসীর। কিছু মানুষের ক্ষোভ থাকলেও বিরোধীদের প্রচারে উৎসাহ ঩নেই। সেই ক্ষোভ মেটাতে  গড় রক্ষায় ছুটে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী।
অন্যদিকে সিপিএম মুসলিম প্রার্থী দেওয়ায় এবং সংখ্যালঘু এলাকাতে তাঁর বাড়তি জনসংযোগে অনেক গেরুয়া নেতা খুশি। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ভাঙবে সিপিএম। যদিও হরেরাম বলেন, ‘এখানে বিরোধীদের কোন প্রভাব নেই। জিতব আমরাই। জল সংকট মেটানো আমাদের শপথ।’  বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোটে সন্ত্রাস না করলে তৃণমূলের হার নিশ্চিত।’ সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সাব্বির হোসেন বলেন, ‘জয়ের আশা রয়েছে আমাদের। মানুষের তরফে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’   শুক্রবার পাড়ায় পাড়ায় বৈঠক করছেন জামুড়িয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিং।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ