সংবাদদাতা, কাটোয়া: ক্রমশ রোদের উত্তাপ বাড়ছে। অসহ্য গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে পানীয় জলের সঙ্কট। কেতুগ্রামের বহরান গ্রামের পূর্বপাড়ার ৫০০টি পরিবার পানীয় জলের সঙ্কটে ভুগছে। ভিনপাড়া থেকে জল আনতে হয় বাসিন্দাদের। বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের সংযোগ দেওয়া হলেও জল আসে না দু’বছর ধরে। জল না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। পানীয় জলের দাবিতে সরব হয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধানও।
গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল হাজরা বলেন, আমি প্রধান হলেও পেশায় টোটো চালক। টোটো নিয়ে গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় ঘুরি। দু’বছর ধরে পূর্বপাড়ায় গেলেই পানীয় জলের অভিযোগ শুনতে পাই। এটা ঠিকাদারের গাফিলতি বলেই মনে হচ্ছে। আমি ব্লক প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের দাবি জানিয়েছি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেতুগ্রাম-২ ব্লকের গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের বহরান গ্রামের পূর্বপাড়ায় পাইপ লাইনের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল দু’বছর আগেই। বাড়ি বাড়ি ট্যাপ কল দেওয়া হয়েছে। অথচ, এখনও জল আসে না। ভিনপাড়া থেকেই জল আনতে হয়। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংযোগ দেওয়ার সময় নাকি সরু পাইপ দিয়েছে। তাই ঠিকমতো জল আসে না। পঞ্চায়েত প্রধানের দাবি, বহরানে ৪টি বুথ রয়েছে। তার মধ্যে ৩টিতে জল এলেও ১টি বুথে জল আসে না। ওই বুথে ৫০০ পরিবার রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জঙ্গল মাঝি, শম্পা হাজরা, বাদুলি মাঝি বলেন, আর কবে পানীয় জল পাব, বুঝতে পারছি না। অন্য পাড়ায় জল এসে গিয়েছে। এবারও গরমে জলকষ্টে ভুগতে হচ্ছে। আমরা বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। তবুও জল পাচ্ছি না।পঞ্চায়েত সদস্য চণ্ডীচরণ মাঝি বলেন, আমাদের মানুষের অভিযোগ শুনতে হয়। প্রশাসনের কর্তাদের জানিয়েছি। প্রশাসনিক কর্তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সার্ভে করে গিয়েছেন। তারপরেও জল আসছে না।বাসিন্দাদের একাংশের আরও অভিযোগ, সরকার সবার জন্যই পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু কয়েকজনের জন্য আমরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। পিএইচই সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া মহকুমার পাঁচটি ব্লকেই বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগের কাজ প্রায় শেষের দিকে। মহকুমাজুড়ে ৭৮টি নতুন জলপ্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এরজন্য নতুন করে প্রায় ১৬০কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। বহু প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হয়েছে। বিভিন্ন ব্লক এলাকায় পাম্প হাউস ও রিজার্ভার তৈরি করে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। কেতুগ্রাম-২ ব্লকের মৌগ্রাম পঞ্চায়েতের জোন-১-এ পাইপ লাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জল দেওয়া হয়েছে। সেখানে জল ধরে রাখতে রির্জাভার তৈরি করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি সংযোগ দেওয়ার কাজও শেষ হয়েছে। আর ওই মৌজাতেই জোন-২-এ পুরনো বদলে নতুন পাইপ দেওয়া হয়েছে। রিজার্ভার তৈরি করা হবে।