Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুরূহ অস্ত্রোপচার করে সাফল্য রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের

দুরূহ অস্ত্রোপচার করে সাফল্য রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ফের অসাধ্য সাধন রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের। স্বল্প পরিকাঠামোয় জটিল অস্ত্রোপচার করে তাক লাগাল তারা। এক প্রৌঢ়ের চোয়ালের টিউমারের অস্ত্রোপচার করা হয় হাসপাতালে। মঙ্গলবার সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ছুটি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। রোগী পরিবারের লোকজন হাসপাতালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
Advertisement
রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গলার কিছুটা উপর চোয়ালের কাছে একটি টিউমার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রৌঢ় কাজল ঘোষ। তাহেরপুরের ‹এ› ব্লকের ওই বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরেই টিউমারের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তিনি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এলে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই রোগের নাম, সাব ম্যান্ডিব্যিউলার গ্ল্যান্ড সইলোলিটবিয়াসিস। কাজল ঘোষের ক্ষেত্রে এই টিউমারের আয়তন ছিল ৪×৩ সেন্টিমিটার। কিন্তু একটি মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামোয় এই ধরনের অস্ত্রোপচার অত্যন্ত দুরূহ। সামান্য ভুলভ্রান্তি হলে তা সামাল দেওয়ার মতো পরিকাঠামো নেই। কিন্তু অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব দেওয়া হয় হাসপাতালের জেনারেল সার্জেন ডাঃ অরূপ মোহন্তকে। অ্যানেস্থিশিয়া করার দায়িত্ব পান ডাঃ অম্লান নাথ এবং ডা অনিন্দিতা দত্ত রায়। বৃহস্পতিবার ওই রোগীকে ভর্তি করার পর শুরু হয় অস্ত্রোপচার। ঘণ্টা দুয়েক বাদে অস্ত্রোপচার সফল হয়। ডাঃ অরূপ মহন্ত বলেন, সাধারণত মহকুমা হাসপাতালে এই ধরনের অস্ত্রোপচার হয় না। কিন্তু আমরা সেটা করতে পেরেছি দেখে ভালো লাগছে। রোগী একেবারে সুস্থ রয়েছেন। মঙ্গলবার তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। আমার সঙ্গে যে দুজন চিকিৎসক অ্যানাস্থেশিয়া করেছেন তাঁদের কাজও যথেষ্ট কঠিন ছিল। তাঁরা অত্যন্ত ভালো কাজ করেছে। রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ প্রহ্লাদ অধিকারী বলেন, গলা এবং হাড় শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। আমাদের সমস্ত নার্ভ যেমন সেখান দিয়ে গিয়েছে, তেমন রয়েছে শ্বাসনালী এবং খাদ্যনালী। 
তার মাঝে এই ধরনের অস্ত্রোপচার অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে করতে হয়। আমাদের চিকিৎসকরা তা সফলভাবে করতে পেরেছেন। এটা সামগ্রিকভাবে আমাদের হাসপাতাল, চিকিৎসক এবং চিকিৎসাকর্মীদের যুগ্ম সাফল্য। সরকারি হাসপাতালে মানুষ এসে যাতে ফিরে না যান, তার জন্য আমরা সব সময় সচেষ্ট থাকি। প্রচুর পরিকাঠামো আমরা গড়তে পেরেছি। চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন সম্ভব হয়েছে আমাদের চিকিৎসকদের জন্য।
সম্পর্কিত সংবাদ