Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরে মুঘল স্থাপত্য ঘিরে গড়ে ওঠা উদ্যানে অসামাজিক কাজকর্ম

দুর্গাপুরে মুঘল স্থাপত্য ঘিরে গড়ে ওঠা উদ্যানে অসামাজিক কাজকর্ম
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে সিটিসেন্টার এলাকায় মুঘল আমলের প্রাচীন সুড়ঙ্গপথ লাগোয়া উদ্যান এখন সমাজবিরোধীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। দুর্গাপুর পুরসভার সংরক্ষিত ওই স্থাপত্য লাগোয়া উদ্যান নজরদারির অভাবে ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়েছে। বেশিরভাগ পথবাতিও জ্বলে না। ফলে সেখানে মদ-গাঁজার আসর বসানোর পাশাপাশি অসামাজিক কাজকর্ম চলছে। এছাড়া, দুর্গাপুর শহরে আরও ১২টি শিশুউদ্যান রয়েছে। সেগুলিরও বেশিরভাগ ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়েছে। উদ্যানে শিশুদের জন্য খেলাধুলোর নানা সরঞ্জাম থাকলেও সেখানে সন্তানদের নিয়ে যেতে পারছেন না অভিভাবকরা। আগে বয়স্করা ওই উদ্যানে বসতেন, প্রাতর্ভ্রমণ করতেন। অসামাজিক কাজকর্মের জন্য তাঁরাও ওই উদ্যানে যেতে পারছেন না। শহরের অন্য উদ্যানও বেহাল। শহরবাসী তাড়াতাড়ি ওই সমস্ত উদ্যান সাফাই করার পাশাপাশি অসামাজিক কাজকর্ম রুখতে পুলিসি নজরদারির দাবি তুলেছেন। পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অনিন্দতা মুখোপাধ্যায় বলেন, এতগুলি উদ্যান রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। আমরা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কথা বলছি। তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় এসব উদ্যান আনা যায় কি না-সেটা দেখা হচ্ছে। পুলিসকে অসামাজিক কাজকর্ম রুখতে বলা হবে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য শহরের বিধাননগর, সিটিসেন্টার সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রায় ১২টি শিশুউদ্যান তৈরি করেছিল পুরসভা ও আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ(এডিডিএ)। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাবে প্রায় প্রতি বছরই এসব উদ্যান ঝোপঝাড়ে ভরে ওঠে। খেলাধুলার সরঞ্জাম ভেঙে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ জানালে কখনও কখনও সাফাই করা হয়। সিটিসেন্টারের অম্বুজা এলাকায় মুগল আমলের সুড়ঙ্গপথ ঘিরে ২০১৯ সালে আম্রুত প্রকল্পে উদ্যান গড়া হয়েছিল। মুঘল আমলের শেষদিকে বেলেপাথরে চুন-বালি, সুড়কির মিশ্রণে গাঁথা উত্তর থেকে দক্ষিণে ওই সুড়ঙ্গপথ দেখতে বহু মানুষ আসেন। কিন্তু এলাকায় অসামাজিক কাজকর্মের জেরে তাঁরা সমস্যায় পড়েন। এলাকার বাসিন্দা রীতেশ মণ্ডল বলেন, ওখানে কিছু যুবক-যুবতী মদ ও গাঁজার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। তারা বেশিরভাগই শিক্ষিত। উদ্যানে নানা অশ্লীল দৃশ্যও চোখে পড়ে। তাই আমরা ছেলেমেয়েদের ওই উদ্যানে নিয়ে যাই না। বয়স্করাও চক্ষুলজ্জায় প‌঩ড়ে সেখানে যান না। উদ্যানে এসব কাজকর্ম রুখতে কড়া পদক্ষেপ দরকার। শহরের অন্য উদ্যানেরও হাল ফেরাতে প্রশাসন উদ্যোগী হোক-এই দাবি জানাচ্ছি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ