Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরে গৌরবাজার-শিবপুরগামী ১৪ কিমি রাস্তা সংস্কারে অনীহা ঠিকাদারদের

দুর্গাপুরে গৌরবাজার-শিবপুরগামী ১৪ কিমি রাস্তা সংস্কারে অনীহা ঠিকাদারদের
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: রাস্তা সংস্কারের পর ৫ বছর তার দেখভালের দায়িত্ব ঠিকাদার সংস্থার। অর্থাৎ ৫ বছরের মধ্যে রাস্তা খারাপ হলে ঠিকাদারকেই তা সারিয়ে দিতে হবে। এই ভয়ে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের একটি রাস্তা সংস্কারের বরাত নিতে চাইছেন না কোনও ঠিকাদার। কারণ, এই রাস্তা দিয়ে অনবরত বালি বোঝাই লরি ও ডাম্পার চলাচল করে। ফলে সংস্কারের পরে ৫ বছরের মধ্যে একাধিকবার রাস্তা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা হলে দায়িত্ব নিতে হবে ঠিকাদারকেই। এই ভয় ঠিকাদারদের এতটাই গ্রাস করেছে যে সংস্কারের অর্থ বৃদ্ধি করেও লাভ হচ্ছে না। 
Advertisement
গৌরবাজার এলাকার দীর্ঘ প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি ১৫ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রায় খালে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল থাকায় গৌরবাজার পঞ্চায়েতের অধিকাংশ গ্রামের বাসিন্দা ও কাঁকসা ব্লকের একাংশের বাসিন্দারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ, বেহাল রাস্তাটিতে বর্ষাকালে জল জমে ডোবার আকার নেয়। বালি বোঝাই যানবাহন চলাচলে বাচ্চা থেকে বয়স্ক মানুষরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। যানবাহন বিকল হয়ে যাচ্ছে। বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হোক।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌরবাজার অজয় নদের পাশে অবস্থিত। ওই নদ পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলার সীমানা। গৌরবাজার গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে নদের পাশ দিয়ে কাঁকসা ব্লকের বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবপুর এলাকায় গিয়েছে রাস্তাটি। দু’টি পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান রাস্তা। প্রায় ২৫-৩০ ফুট চওড়া রাস্তাটি ২০০৮ সালে শেষবার সংস্কার করা হয়েছিল। ক্রমাগত বালি বোঝাই যানবাহন চলাচলে রাস্তার পিচ, পাথর উঠে গিয়ে ডোবায় পরিণত হয়েছে রাস্তাটি। কাঁকসার ঠাকুরানী বাজার ও শিবাপুর এলাকার বাসিন্দা কানন রুইদাস ও বিক্রম বাগদি বলেন, আমাদের গ্রামের পড়ুয়ারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। রোগী নিয়ে যেতে যেতে রাস্তায় মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।
গৌরবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাঁসু সৌ দত্ত বলেন, এলাকায় প্রায় ৫টি বৈধ বালিঘাট রয়েছে। প্রায় সারাবছর বালি বোঝাই ভারী যানবাহন যাতায়াত করে। রাস্তা বেহাল তো হবেই। কিন্তু সাধারণ মানুষকে ব্যাপক দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ওই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সরকার বরাত দিচ্ছে, কিন্তু কোনও ঠিকাদার কাজ করতে চাইছে না।
গৌরবাজার অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি উৎপল দত্ত বলেন, শিবপুর যাওয়ার রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রায় ৬ মাস আগে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কোনও ঠিকাদার বরাত নেয়নি। সরকার থেকে ফের ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও ঠিকাদার এগিয়ে আসছে না। বিডিও অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে ওই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। কোনও সংস্থা বরাত নিচ্ছে না জানতে পারলাম। আমরা চেষ্টা করে চলেছি। জেলাশাসক ও আমাদের নজরে বিষয়টি রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ