Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

দুর্ঘটনায় মৃতদের দেহ সংরক্ষণের জন্য বরফই মেলেনি গুজরাতে, উল্টে ৪০ লক্ষ টাকা দাবি!

দুর্ঘটনায় মৃতদের দেহ সংরক্ষণের জন্য বরফই মেলেনি গুজরাতে, উল্টে ৪০ লক্ষ টাকা দাবি!
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ‘ডাবল ইঞ্জিন’-এ চলা ভাইব্র্যান্ট গুজরাতে দেহ সংরক্ষণের জন্য সামান্য বরফ মিলছে না! উল্টে ফেরাতে জুটেছে ‘বাহুবলী’দের হুমকি ফোন! সেখানে দাবি করা হয়েছে, ৪০ লক্ষ টাকা ফেললে তবেই মিলবে পাঁচ জনের দেহ! এমনই অভিযোগ তুলেছেন বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি মন্ত্রী মলয় ঘটকের মাধ্যমে জানানো হয় রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে। সূত্রের খবর, রাজ্য প্রশাসনের তরফে দেহগুলি ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, সবটাই নির্ভর করছে দুর্ঘটনায় মৃত আসানসোলের বাসিন্দা শুক্লা চট্টোপাধ্যায়ের বড় ছেলের উপর। তিনি আমেরিকায় কর্মরত। সেখান থেকে সরাসরি গুজরাতে নামবেন। তিনি চাইলে দেহগুলি বাংলায় ফেরানো হতে পারে। নতুবা গুজরাতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হতে পারে বলে মনে করছেন মৃতদের আত্মীয়-স্বজনরা। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসন। আসানসোলের মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, ‘দেহগুলি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক  স্তরে শোকার্ত পরিবারের পাশে রয়েছি।’ 
Advertisement
রবিবার বিকেলে গুজরাতে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান পাঁচ বাঙালি পর্যটক। তারপরই একে একে বেরিয়ে আসতে মোদি-অমিতের রাজ্যের প্রশাসনের কঙ্কালসার চেহারা। দেহগুলি সংরক্ষণের কোনও ব্যবস্থাই করা হয়নি। নিজেরা বরফ জোগাড় করে সেই কাজ করতে চেয়েছিলেন মৃতদের পরিবারের লোকেরা। সামান্য সেই বরফও তাঁদের দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের তরফে সামান্য সহযোগিতাও করা হয়নি। তার চেয়েও গুরুতর অভিযোগ, দেহ ফেরাতে চাইলে দুর্ঘটনার দায় পুরোপুরি মৃতদের গাড়ির চালকের উপর চাপিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে। সেটা দিতে অস্বীকার করলে জুটেছে হুমকি ফোনও! গুজরাতে প্রশাসনের এহেন ভূমিকার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল। যদিও, অভিযোগ ঘিরে অস্বস্তি ঢাকতে ‘ভুল বোঝাবুঝি’র সাফাই দিচ্ছে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব।  
আসানসোলের কোর্ট মোড়ের বাসিন্দা শুক্লা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ কানে আসার পর পরই তৎপর হয়ে ওঠেন রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় কাউন্সিলার গোটা ঘটনাটি আমাকে জানান। আমি মুখ্যসচিরের নজরে আনি। তিনি দেহগুলি আনতে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করেছেন। মোদিজি ও অমিত শাহের রাজ্যের কী পরিস্থিতি আপনারাই বিবেচনা করুন।’ জানা গিয়েছে, শুল্কাদেবী তাঁর স্বামী মানবেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমানের আত্মীয়দের সঙ্গে গুজরাত ঘুরতে যান। রবিবার বিকেলে সুরেন্দ্রনগর 
এলাকায় পর্যটকদের গাড়িটি একটি ডাম্পারের পিছনে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই শুক্লাদেবী সহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হয়ে আইসিইউতে ভর্তি মানবেন্দ্রনাথবাবু। পরিবারের ছোট ছেলে আবির্ভাব চট্টোপাধ্যায় কালকাতায় এক বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তিনি খবর পেয়ে রবিবারই গুজরাত উড়ে যান। সেখানে গিয়ে অথৈ জলে পড়েন। স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ। অর্বিভাবের এক কাকু মলয় চট্টোপাধ্যায় এদিন আসানসোলে বলেন, ‘ভাইপো ওখানে পৌঁছে বিপাকে পড়েছে। কোনও প্রশাসনিক সাহায্য পাচ্ছে না। একটু বরফও জোগাড় করা যাচ্ছে না। আপনাদের কাছে আর্জি, বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে দেখুন।’ মৃতের বাড়িতে সকালেই চলে 
আসেন ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মৌসুমি বসু। তিনি অব্যবস্থার কথা জানতে পেরেই মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক মলয় ঘটককে ফোনে পুরো বিষয়টি জানান। তারপরই শুরু হয় প্রশাসনিক তৎপরতা। পরে শুক্লাদেবীর  বাড়িতে আসে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। দলের জেলা সভাপতি বাপ্পা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। তাঁদের সমস্যার কথা শুনে আমরাই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কোনও ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে। আমরা পাশে রয়েছি।’  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ