Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার হয়নি ট্যাঙ্ক, পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছে না পাঠভবনের পড়ুয়ারা

দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার হয়নি ট্যাঙ্ক, পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছে না পাঠভবনের পড়ুয়ারা
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বোলপুর: অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জল পান করতে হচ্ছে বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী পাঠভবনের পড়ুয়াদের। শান্তিনিকেতনের আশ্রম মাঠে সংলগ্ন কলে জল সরবরাহ করা ট্যাঙ্কগুলিও দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার হয়নি বলে অভিযোগ। অথচ প্রায় এক বছর ধরে ‘পিউরিফায়েড কুলার’ অব্যবহৃত অবস্থায় বিশ্বভারতীর স্পোর্টস বোর্ড অফিসে পড়ে রয়েছে। ‌ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে, তার দায় কে নেবে এই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরা। যা নিয়ে তাঁরা ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। স্পোর্টস বোর্ডকে পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করার জন্য শীঘ্রই বলা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
Advertisement
উল্লেখ্য, বিশ্বভারতীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় পাঠভবন। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড লিভিং হেরিটেজ সাইটের অন্তর্গত। ফলে, বিদ্যালয়টির আলাদা করে গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু, ছাত্রছাত্রীরা পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছে কি না সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মূলত, ছাত্রছাত্রীরা বিকেলে পাঠভবন সংলগ্ন আশ্রম মাঠে খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করে। এরপর পিপাসা পেলে মাঠ সংলগ্ন স্পোর্টস বোর্ডের দু’টি কল থেকে জলপান করে। কিন্তু সেই জলের কলগুলির চারপাশ শ্যাওলায় ভরে গিয়েছে। পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর। সম্প্রতি, আশ্রম মাঠে আয়োজিত বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেখতে গিয়ে সেই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অবাক হন অভিভাবকরা। সেই জল মূলত স্থায়ী ট্যাঙ্ক থেকে সরবরাহ হয়। সেই ট্যাঙ্কগুলিও দীর্ঘ সময়কাল ধরে সংস্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ। এই ধরনের জল নিয়মিত পান করলে কলেরা, টাইফয়েড ও ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষাভবনের মাইক্রো বায়োলজির অধ্যাপক বম্বা দাম। স্পোর্টস বোর্ডের এক আধিকারিকও ওই জল নিয়মিত পান করেন বলে স্বীকার করে নেন। অথচ প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে পিউরিফায়েড কুলার কিনে রাখা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা ব্যবহৃত না হয়ে পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। কেন এযাবৎ তা ব্যবহার করা হয়নি এ বিষয়ে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ পাঠভবনের অভিভাবকদের একাংশ। 
আবাসিক পড়ুয়ার এক অভিভাবক বলেন, ছাত্রছাত্রীদের পরিস্রুত পানীয় জল প্রদান করা বিদ্যালয়ের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। দূরত্বের কারণে সন্তানরা হস্টেলে পড়াশোনা করছে। তাই সবসময় নজরদারি সম্ভব নয়। তবে, পানীয় জল নিয়ে কেউ যেন আপোষ না করে, সে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ জানাই। এপ্রসঙ্গে পাঠভবনের অধ্যক্ষা বোধিরূপা সিংহ বলেন, পরিস্রুত পানীয় জল সব ছাত্রছাত্রীদেরই প্রয়োজন। পাঠভবন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সেই ব্যবস্থা রয়েছে। তবে, কোনও বাচ্চাই যাতে অপরিস্রুত জল পান না করে সেদিকে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ