সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ‘সিলেকটেডেড এসে-কাজী নজরুল ইসলাম’, ‘কাজী নজরুল ইসলাম’স জার্নালিজম, এ ক্রিটিক’, ‘দ্য কালেকটেড শর্ট স্টোরিজ অব কাজী নজরুল ইসলাম’—কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল সেন্টার ফর সোস্যাল অ্যাণ্ড কালচারাল স্টাডির উদ্যোগে এমনই বহু অমূল্য বই প্রকাশিত করেছে বহু বিশ্বখ্যাত প্রকাশনী সংস্থা। অথচ, তাঁর নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নই থমকে গিয়েছে। এ যেন প্রদীপের নীচে অন্ধকার! কারণ একটাই, অভিভাবকহীন বিশ্ববিদ্যালয়। ছ’মাসেরও বেশি সময় উপাচার্য নেই। ফলে প্রায় ৩৫ হাজার পড়ুয়ার বিশ্ববিদ্যালয় চলছে জোড়াতালি দিয়ে। যা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ শিক্ষামহল।
Advertisement
উপাচার্যই হলেন শিক্ষা, গবেষণা থেকে উন্নয়নের ভরকেন্দ্র। বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারীও তিনিই। আর সেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের (ইসি) বৈঠকে। উপাচার্য ছাড়া ইসি বৈঠক হয় না। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিঘ্নিত হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের সম্মতি না নিয়েই এক তরফাভাবে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস দেবাশিস বন্দোপাধ্যায়কে উপাচার্য নিয়োগ করেন। তিনিও গত বছর আগস্ট মাসে পদত্যাগ করে চলে গিয়েছেন। তারপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ হয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য একের পর এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। সেখানে পাশের জেলা পশ্চিম বর্ধমানের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম অচলাবস্থা। নতুন কোনও কোর্স চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া, কোনও কোর্সের পড়ুয়া সংখ্যা বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া যাচ্ছে না। ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। উপাচার্য না থাকায় যা সম্ভব হচ্ছে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে একটি গভর্নমেন্ট কলেজ ও ১২টি সরকার পোষিত কলেজ। সেগুলির কর্তৃপক্ষ ও পড়ুয়াদের উপাচার্য না থাকার ফল ভুগতে হচ্ছে।
আসানসোল বিবি কলেজের অধ্যক্ষ অমিতাভ বসু বলেন, ‘নিউ এডুকেশন পলিসিতে কী বিষয় নেওয়া হবে। কোর্সের বদল করার প্রয়োজন, ইন্টার্নশিপ কী ভাবে হবে, এই সব নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই নেই। কে এই সিদ্ধান্ত নেবেন? দ্রুত কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ প্রয়োজন।’
কাজী নজরুল ইসলাম নিয়ে গবেষণা ও নজরুল চর্চা জোরাল ভাবে করতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গড়ে উঠতে চলেছে নজরুল সেন্টার। এই পরিকল্পনার মূল উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদায়ী উপাচার্য এনিয়ে কাজের গতি আনেন। কিন্তু বর্তমানে উপাচার্যহীন অবস্থায় তা কবে উদ্বোধন হবে, সেটা বিশবাঁও জলে। বিভিন্ন সরকারি ফান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজেক্ট চলে। সেগুলির চূড়ান্ত অনুমোদনের অথরিটি উপাচার্য। সেক্ষেত্রেও গবেষণামূলক কাজে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।
নজরুল সেণ্টার সোস্যাল অ্যাণ্ড কালচারাল স্টাডির উপ অধিকর্তা সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগে একাধিক উল্লেখযোগ্য বই প্রকাশিত হয়েছে। নজরুল ইসলামের পাণ্ডুলিপি ডিজিটালাইজেশনের কাজ চলছে। কিন্তু উপাচার্য না থাকায় নতুন পরিকল্পনা করতে ব্যাপক ভাবে সমস্যা হচ্ছে।’ বিষয়টি নিয়ে ওয়েবকুপার কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি বিজ্ঞানী সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এই অবস্থার পিছনে সম্পূর্ণ ভাবে দায়ী রাজ্যপাল। তিনি রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনওভাবেই আলোচনার রাস্তাতেই হাঁটছেন না।’
আসানসোল বিবি কলেজের অধ্যক্ষ অমিতাভ বসু বলেন, ‘নিউ এডুকেশন পলিসিতে কী বিষয় নেওয়া হবে। কোর্সের বদল করার প্রয়োজন, ইন্টার্নশিপ কী ভাবে হবে, এই সব নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই নেই। কে এই সিদ্ধান্ত নেবেন? দ্রুত কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ প্রয়োজন।’
কাজী নজরুল ইসলাম নিয়ে গবেষণা ও নজরুল চর্চা জোরাল ভাবে করতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গড়ে উঠতে চলেছে নজরুল সেন্টার। এই পরিকল্পনার মূল উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদায়ী উপাচার্য এনিয়ে কাজের গতি আনেন। কিন্তু বর্তমানে উপাচার্যহীন অবস্থায় তা কবে উদ্বোধন হবে, সেটা বিশবাঁও জলে। বিভিন্ন সরকারি ফান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজেক্ট চলে। সেগুলির চূড়ান্ত অনুমোদনের অথরিটি উপাচার্য। সেক্ষেত্রেও গবেষণামূলক কাজে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।
নজরুল সেণ্টার সোস্যাল অ্যাণ্ড কালচারাল স্টাডির উপ অধিকর্তা সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগে একাধিক উল্লেখযোগ্য বই প্রকাশিত হয়েছে। নজরুল ইসলামের পাণ্ডুলিপি ডিজিটালাইজেশনের কাজ চলছে। কিন্তু উপাচার্য না থাকায় নতুন পরিকল্পনা করতে ব্যাপক ভাবে সমস্যা হচ্ছে।’ বিষয়টি নিয়ে ওয়েবকুপার কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি বিজ্ঞানী সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এই অবস্থার পিছনে সম্পূর্ণ ভাবে দায়ী রাজ্যপাল। তিনি রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনওভাবেই আলোচনার রাস্তাতেই হাঁটছেন না।’



