Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে জিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পেলেন জন্মান্ধ জাসমিনা বিবি  

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে জিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পেলেন জন্মান্ধ জাসমিনা বিবি
 
  • ২৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দীর্ঘ আটবছর আইনি লড়াইয়ের পর জয়ের মুখ দেখলেন মুরারইয়ের ডুমুরগ্রামের জমান্ধ জাসমিনা বিবি। হাইকোর্টের নির্দেশে অসহায় ওই মহিলা ফিরে পেলেন তাঁর শেষ সম্বল চার শতক জায়গা। 
Advertisement
বছর পঁয়ত্রিশের জাসমিনা বিবি জন্ম থেকেই অন্ধ। গ্রামের মসজিদ পাড়ার একটি ফাঁকা জায়গায় ছিটেবেড়ার ঘর বানিয়ে পরিবার নিয়ে কোনওরকমে দিনযাপন করতেন। ২০১৪ সালে সরকার থেকে সেই জায়গার পাট্টা পান জাসমিনা। এরপরই রাতের অন্ধকারে কে বা কারা জাসমিনার সেই ছিটেবেড়া ভেঙে দেয়। থানায় অভিযোগ করেও সুরাহা মেলেনি। ২০১৫ সালে গ্রামেরই এক ব্যক্তি সেই জায়গা গায়ের জোরে দখল করে। বিচার চেয়ে জাসমিনা তৎকালীন মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হন। এসডিও কোর্টে দু’ পক্ষের শুনানি করে মহকুমা শাসক পুলিসকে ওই জায়গা দখলমুক্ত করে জাসমিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু পুলিস সেই নির্দেশ পালন করার আগ্রহ দেখায়নি। ২০১৬ সালে জন্মান্ধ ওই মহিলা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। অদ্ভুত বিষয় হল, ওই বছরই দখলকারী ব্যক্তির নামে সরকারি আবাস যোজনার বাড়ি বরাদ্দ করে প্রশাসন। জাসমিনা তৎকালীন বিডিওকে লিখিতভাবে জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে বাড়ি নির্মাণের কিস্তির টাকা বরাদ্দ অব্যাহত থাকে। ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা ভ্যাকেট করে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলে জোরকদমে। জাসমিনা প্রশ্ন তোলেন, ভূমিদপ্তরে জায়গার রেকর্ড রয়েছে তাঁর নামে। সরকারি পাট্টা প্রাপকের তালিকায় তাঁর নাম। অথচ সেই জায়গায় প্রশাসন কী করে অন্যের নামে সরকারি বাড়ি বরাদ্দ করে? সর্বোপরি হাইকোর্টে বিষয়টি বিচারাধীন। মামলার নিস্পত্তি হওয়ার আগে কী করে সেই জায়গায় নির্মাণ চলতে পারে। কিন্তু অসহায় মহিলার কথা কে শোনে। যদিও আইনের প্রতি আস্থা হারাননি ওই মহিলা। তার ফলও পেয়েছেন। হাইকোর্টে মামলার রায় যায় জাসমিনার পক্ষে। হাইকোর্টের নির্দেশ পেয়ে বিডিও সেখানে থাকা ওই ব্যক্তির বাড়ি ভেঙে জাসমিনাকে দখল দেন। দিন কয়েক আগে ওই ব্যক্তি বিডিওর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে পিটিশন করেন। বুধবার সেই পিটিশনের শুনানি ছিল। বিডিও বীরেন্দর অধিকারী বলেন, হাইকোর্ট পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নস্যাৎ করে উল্টে মামলাকারী ব্যক্তিকে দু’ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই ঩ফিরে পেয়ে খুশি জাসমিনা। তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার ভরসা ছিল। দেরিতে হলেও সেই ফল পেলাম।
সম্পর্কিত সংবাদ