নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: রাতভর মদের আসর। সেই আসরে উপস্থিত এক যুবতীও। ভোরের আলো ফোটার পরেও চলছিল সেই মজলিশ। পাড়ার মধ্যে ‘মেহফিল’ বসিয়ে প্রকাশ্যে মদ খাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করতে যান এক অঙ্কন শিক্ষক। বেধড়ক মারধর জুটল তাঁর বরাতে। মদ্যপদের তাণ্ডবের এই ঘটনা বেলঘরিয়া থানার নন্দননগর এলাকায়। একজন শিক্ষককে এইভাবে মারধরের ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে সব মহলে। শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে এখন ভাইরাল! আলোড়ন শুরু হয়েছে গোটা এলাকায়। আক্রান্ত ওই অঙ্কন শিক্ষকের নাম নিরুপম পাল। তিনি নন্দননগরেরই বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে এক আত্মীয়ের বাড়ির কৌশিকী অমাবস্যায় কালীপুজোয় অংশ নিয়ে শনিবার ভোরে বাইকে চেপে ফিরছিলেন। শিক্ষক নিগ্রহের ওই ঘটনায় মদিরা মুখোপাধ্যায় নামে এক যুবতী এবং পলাশ দাস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে দুই নাবালককে। জখম অঙ্কন শিক্ষক সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।
ওই শিক্ষক বলেন, সকাল ৬টা নাগাদ নন্দননগর বড় রাস্তার ধারে লোকনাথ ঝিল পাড়ে যুবক, যুবতী ও নাবালক মিলিয়ে একদল প্রকাশ্যে মদ্যপান করছিল। ভোরবেলা পাড়ার মধ্যে প্রকাশ্যে তারা মদ্যপান করছে কেন? জানতে চেয়েছিলাম। এরপরই ওই যুবক-যুবতীরা ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর শুরু করে। মুখ, নাক, চোখ ও বুকে একাধিক আঘাত করা হয়েছে। এলোপাথাড়ি কিল, চড়, ঘুসি মারা হয়। ওই সময় বেশ কয়েকজন সেই রাস্তায় ছিলেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি বাঁচাতে। প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। দুপুরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিমতার বাসিন্দা মদিরাকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর বাকিদের হদিশ মেলে। দিন কয়েক আগে বেলঘরিয়াতে দাবি মতো চাঁদা না দেওয়ায় দুষ্কৃতীদের মারধরে গুরুতর জখম হয়েছিলেন এক যুবক।
ওই অঙ্কন শিক্ষক ছাড়াও প্রকাশ্যে মদ্যপানে আপত্তি জানিয়েছিলেন আরও একজন। মদ্যপরা পাত্তা দেয়নি। বিপ্লব দাস নামে নন্দননগরের অপর এক বাসিন্দার প্রশ্ন, একজন শিক্ষক, যার কাছে প্রায় শ’খানেক ছাত্র-ছাত্রী আঁকা শেখে তাঁকেই যদি এভাবে মারধর করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে! আক্রান্ত শিক্ষকের ছেলে সৌহার্দ্য পাল বলেন, বাবা মদ্যপানের প্রতিবাদ করায় যেভাবে নিগৃহীত হলেন, তাতে আমরা যথেষ্ট আতঙ্কিত।
অপরদিকে ঘটনার খবর পেয়ে এদিন আক্রান্তের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন সিপিএম নেতা সায়নদীপ মিত্র। তিনি বলেন, স্কুল বন্ধ করে যেভাবে পাড়ায় পাড়ায় মদের দোকান খোলা হচ্ছে, এটা তারই প্রতিফলন। ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় বিধায়ক মদন মিত্রও। তাঁর কথায়, বেলঘরিয়া ও তার আশপাশ এলাকা গোলমাল পাকানোর চেষ্টা চলছে। ঘটনায় জড়িতদের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বারাকপুরের পুলিস কমিশনার মুরলীধর শর্মা।