শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ইচ্ছে করে হারিয়ে গিয়ে আলাদা থাকা মা-বাবাকে ফের মিলিয়ে দিল এক বালক। গত ২৩ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় পাঁশকুড়ায় মেচগ্রামে ভাড়াবাড়ি থেকে মায়ের নজর এড়িয়ে ‘হারিয়ে যায়’ ১০ বছরের ওই বালক। ছেলেকে খুঁজে পেতে পাঁশকুড়ায় থানায় মিসিং ডায়েরি করেন মা কল্যাণী সোরেন। এরপর পুলিস ওই বালককে উদ্ধার করে বুধবার তমলুক সিজেএম কোর্টে নিয়ে আসে। কোর্ট চত্বরেই হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে জড়িয়ে ধরলেন বাবা সুকুমার সোরেন ও মা কল্যাণীদেবী। এরপর ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দু’জনে একসঙ্গে থাকার শপথও নিলেন। নাতির ‘কীর্তি’তে একগাল হাসি মামাদাদু লক্ষ্মণ সোরেনের।
প্রায় ১২ বছর আগে পাঁশকুড়া থানার ময়নাডাল গ্রামের লক্ষ্মণবাবুর মেয়ে কল্যাণীদেবীর সঙ্গে ডেবরা থানার পলাশী গ্রামের সুকুমারবাবুর বিয়ে হয়। তাঁদের ১০ বছরের এক সন্তান রয়েছে। বছর তিনেক আগে দাম্পত্য কলহের জেরে দু’জনে আলাদা থাকতে শুরু করেন। ডেবরার পলাশী গ্রামের বাড়িতে থাকেন সুকুমারবাবু। অন্যদিকে, পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানেই থাকেন কল্যাণীদেবী। তাঁর সঙ্গে থাকে ১০ বছরের ওই ছেলে। সে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। মায়ের কাছে থাকলেও ওই বালক বাবাকে খুব মিস করত। মাকে মাঝেমধ্যেই সে কথা বলত। কিন্তু, কোনও লাভ হয়নি। আলাদা থাকায় বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল ওই বালক। গত ২৩ মে বল কিনে দেওয়ার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরে। বাবা থাকলে বল কিনে দিত বলে সে মায়ের কাছে অভিযোগ করে। তারপরই বাবা-মাকে আবার এক জায়গায় আনার ফন্দি আঁটতে নিজে হারিয়ে যাওয়ার প্ল্যান করে। ওইদিন সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মেদিনীপুরগামী বাসে চেপে বসে। বাস ভাড়া দিতে না পারায় কন্ডাক্টর রাতুলিয়া বাসস্টপে বালককে নামিয়ে দেয়। দু’দিন এদিক ওদিক কাটানোর পর ২৫ তারিখ পলাশী গ্রামে বাবার কাছে পৌঁছে যায়।
এদিকে, ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে ওই বালকের মা পাঁশকুড়া থানার মিসিং ডায়েরি করেন। পলাশী গ্রামে বাবার কাছে ওই বালক পৌঁছনোর পর পুলিস সেই খবর জানতে পারে। মঙ্গলবার ওই বালককে উদ্ধার করা হয়। বুধবার পাঁশকুড়া থানার পুলিস তাকে তমলুক সিজেএম কোর্টে পেশ করে। ওই বালক বাবা এবং মা দু’জনের কাছেই থাকতে চায় বলে আদালতে সে জানায়। একমাত্র সন্তানকে পেতে বাবা-মা দু’জনেই আদালতে আসেন। তাঁরা দু’জনে সিদ্ধান্ত নেন, এবার থেকে তাঁরা আবার একসঙ্গে থাকবেন। ছেলের অভাব, অভিযোগ দু’জনে মিলে মেটাবেন। সুকুমারবাবু বলেন, আমরা একসঙ্গেই থাকব। ছেলের জন্য নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বালকের দাদু লক্ষ্মণবাবু বলেন, জামাই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ায় মেয়ের সঙ্গে ঝামেলা হতো। গ্রামে দু’-একবার সালিশি সভাও হয়েছে। তাতে কোনও সমাধান না হওয়ায় মেয়ে আলাদা থাকত। এদিন আদালতে আসা পুলিস কর্মী তাঁর ফোন নম্বর ওই বালককে দিয়েছেন। বাবা-মায়ের মধ্যে কোনও ঝামেলা হলে তাঁকে জানালে সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।



