বাসুদেব এক ভিন্ন চরিত্রের মানুষ। নিজের মতেই চলে। তাতে ভালোই হোক বা মন্দ। খেলাধুলায় এক সময় বেশ নামডাক ছিল। এক ডাকে ময়দানে সবাই চিনত। শরীরচর্চা করা তার নিত্যদিনের অভ্যাস। নতুন ফ্ল্যাটে এসেও তার অন্যথা হয়নি। শিখা বার বার মনে করিয়ে দেয়, বাসুদেবের হৃদযন্ত্র দুর্বল। নতুন ফ্ল্যাটে লিফট থাকলেও হেঁটে উঠতেই সে ভালোবাসে। শরীরের তোয়াক্কা না করেই বাসুদেব নিজের মতে অবিচল। এক দিন সন্ধ্যায় সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা যায় বাসুদেব। তার সেই মৃত্যু নিয়ে দর্জিপাড়া মেঘদূতের নতুন নাটক ‘সিঁড়ি ভাঙা অঙ্ক’।
বাসুদেবের মৃত্যু স্বাভাবিক, নাকি হত্যা? রহস্য দানা বেঁধেছে তা নিয়ে। হয়তো গোয়েন্দা শবর না থাকলে এই মৃত্যু নিয়ে এত জলঘোলা হতো না। যদি হত্যা হয়, তাহলে হত্যাকারী কে? মৃত্যুর রহস্য খুঁজতে গিয়ে বাসুদেবের চরিত্রের পর্দা ফাঁস হয়ে যায়। বেরিয়ে আসে অবৈধ সম্পর্ক সহ আরও অনেক অজানা কথা। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এই নাটকের নাট্যরূপ ও নির্দেশনা রাজকুমার পালের। বাসুদেবের (প্রসেনজিৎ ঘোষ) স্ত্রী শিখা (শিপ্রা মুখোপাধ্যায়) এই নাটকের অন্যতম আকর্ষণ। তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করে। জীবনসঙ্গীর প্রতি অতৃপ্তি, অসন্তুষ্টির প্রকাশ তাঁর হাবভাবে, কথার মারপ্যাঁচে। প্রসেনজিৎও তাঁর চরিত্রের প্রতি যত্ন নিয়েছেন। গোয়েন্দা শবর (অরুণাভ সেন) তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিনয়ের মধ্যে তাঁর সন্দেহ প্রবণতা ধরা পড়েছে। শঙ্কর (সৌমিত্র মুখোপাধ্যায়), রিনা (অমৃতা অধিকারী), অজাত শত্রু (বিপ্লব দত্ত) নিজেদের চরিত্রকে উপস্থাপন করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। নাটকের প্রয়োজনে পার্শ্ব চরিত্ররা চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। গোপাল সাহার আলো ও অরূপ চক্রবর্তীর আবহ নাটককে সম্পূর্ণ করেছে। তবু্ও বলতে হয় নাটকটি এত দীর্ঘায়িত না হলেই ভালো হতো।



