নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: জমা জলের সমস্যায় পড়েছে ডানকুনি পুর এলাকার বাসিন্দারা। এক পশলা বৃষ্টি হলেও শহরে জল জমে যেত। সে সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এবার জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জেরে জমা জল বের হওয়ার রাস্তাও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি হওয়ায় শহরের বেশ কিছু ওয়ার্ডে জল জমে গিয়েছে। জমা জলে পা ফেলে যাতায়াত করতে হচ্ছে একাধিক ওয়ার্ডের মানুষকে। বাড়ছে সাপ, পোকামাকড়ের উপদ্রব।
এই পরিস্থিতে নাগরিকদের ক্ষোভের মুখে পড়া পুরসভা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুলছে। কেন্দ্রীয় সরকারি ওই প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে মুখ না খুললেও তাদের হয়ে আসরে নেমেছে বিজেপি। ফলে শাসক-বিরোধী তরজা শুরু হয়েছে ডানকুনিতে। তবে নাগরিক সমস্যার সমাধানের কোনও সদুত্তর মিলছে না। ডানকুনি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা বলেন, জাতীয় সড়ক-১৯-এর সম্প্রসারণের জেরে বাইগাছি খাল বুজে গিয়েছে। ডানকুনি পুরসভার জল বের হওয়ার অন্যতম বড় পথ বন্ধ। আমরা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, সড়কের পাশে কাঁচা খাল করে দিতে কিন্তু তারা তা করেনি। জল বের করার জন্য পাম্প দিতে বলেছিলাম। সেখানেও একটি মাত্র পাম্প তারা বসিয়েছেন। তাও রাতে পাম্প চালানো হয় না। আমরা পাঁচটি পাম্প দিনরাত চালিয়ে জল অনেকটা বের করে দিয়েছি। কিন্তু বাদ সাধছে লাগাতার বৃষ্টি। ডানকুনি একটি নির্মীয়মাণ শহর হিসেবে পরিচিত। সেখানে এমনিই কিছু সমস্যা থাকে। জাতীয় সড়কের পরিকল্পনাহীন কাজ সেই সমস্যাকে বহু গুণ বাড়িয়ে তুলেছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কর্তারা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
তবে বিজেপির স্থানীয় নেতা দিলীপ সিং বলেন, ২০১২ সালে রেলের উন্নয়নের নামে একাধিক পুকুর বুজিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বরাই। তখন থেকেই জলজমার সমস্যা শহরে ব্যাপক হয়ে ওঠে। পুরসভার নিকাশি ব্যবস্থার ত্রুটি, পরিকল্পনার অভাব ঢাকতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। বিজেপি নেতার পাল্টা সমালোচনায় সরব হয়েছেন হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর তথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সুবীর মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য অনেক পদক্ষেপ করতে হয়। রেলের উন্নয়নের জন্য তেমনই করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সড়ক যা করেছে তা উন্নয়নের নামে পরিকল্পনাহীন কাজ। আমরা সম্প্রতি জেলাশাসকের মাধ্যমে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ডেকেছিলাম। সেখানেও তারা সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু কাজ করেননি।
বর্ষা মরশুমজুড়েই ভোগান্তির শিকার হয়েছে ডানকুনির মানুষ। বিশেষ ১৩ থেকে ১৫, ২০ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষকে ব্যাপক ভুগতে হয়েছে। জমাজলের কারণে তাঁরা শহরে বাস করছেন না নদীতে তাই বুঝতে পারেননি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তরজার বাইরে তাঁরা চাইছেন, এবার সমস্যা মিটুক।