Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খসড়া তালিকা প্রকাশ, নোটিশ ১ কোটি ৬৬ লক্ষকে! শুনানি শুরু ২৩ ডিসেম্বর

মঙ্গলবার বাংলায় প্রকাশিত হল বহু প্রতীক্ষিত খসড়া ঩ভোটার তালিকা।

খসড়া তালিকা প্রকাশ, নোটিশ ১ কোটি ৬৬ লক্ষকে! শুনানি শুরু ২৩ ডিসেম্বর
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার বাংলায় প্রকাশিত হল বহু প্রতীক্ষিত খসড়া ঩ভোটার তালিকা। এসআইআরের এই প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যের ভোটার সংখ্যা হল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন মোট ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটার। খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই এবার শুনানির প্রস্তুতি শুরু করে দিল কমিশন। আগামী ২৩ ডিসেম্বর শুরু হবে শুনানি প্রক্রিয়া। 

Advertisement

এদিন সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে খসড়া তালিকা নিয়ে আগ্রহ এবং উদ্বেগ ছিল চরমে। কেউ অনলাইনে, কেউ আবার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের নাম খুঁজেছেন। কেউ ফোন করেছেন বিএলওকে। কারও ‘ত্রাতা’ হয়ে দেখা দিয়েছেন এলাকার কাউন্সিলার। কোনও ভোটার স্বস্তি পেয়েছেন। কেউ নিজের নাম খসড়ায় খুঁজে না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। ডানকুনিতে যেমন এতদিন বিএলওর সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সূর্য দে এদিন সকালে আবিষ্কার করেছেন, খসড়া তালিকায় তাঁর নাম নেই। তিনি ‘মৃত’। দুর্গাপুরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সময়ে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দেওয়া সত্ত্বেও তালিকায় নাম ওঠেনি ১০ জন ভোটারের। আবার জীবিতকে মৃত, কিংবা ভোটারের নামের বানান ভুল—শিলিগুড়িতে এমন ‘ত্রুটি’ মিলেছে ভূরি ভূরি। একইসঙ্গে তালিকায় ভোটারের নাম হিন্দিতে লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে। শিলিগুড়ি শহরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় আবার এক মহিলার নামের পাশে লেখা ‘বাংলা বাংলা’। তাঁরা প্রত্যেকেই অবশ্য অভিযোগ জানাতে পারবেন ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে কমিশন জানিয়েছে, ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করার পরও যদি কোনও ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে অবিলম্বে সেই ভোটারকে বিএলওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্তই একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিএলওরা সংশ্লিষ্ট বুথে বসবেন। তাঁর কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। সূত্রের খবর, খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে না, তাঁদের নতুন করে নাম তোলার জন্য আবেদন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাঁদের ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে হবে। সেইসঙ্গে একটি ডিক্লারেশন ফর্ম ফিল আপ করা বাধ্যতামূলক হয়েছে। এই ডিক্লারেশন ফর্মে ইনিউমারেশন ফর্মের মতোই তথ্য দিতে হবে আবেদনকারীকে। পাশাপাশি, অন্য রাজ্য থেকে আসা ভোটাররা এ রাজ্যের তালিকায় নাম তুলতে চাইলে, তাঁদের পূরণ করতে হবে ফর্ম ৮। তাঁদেরও ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ১ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না হওয়া উপযুক্ত প্রমাণ সহ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। শুনানি প্রক্রিয়ায় নজরদারি করতে পারে কমিশন। সেজন্য ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে শুনানি পর্বে। অনলাইনে শুনানিতে যোগ দেওয়া যাবে কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট করেনি কমিশন। যে জেলাগুলিতে ডিএম অফিসে সম্পূর্ণ শুনানির সুযোগ নেই, সেখানে অন্যত্র ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিডিও, এসডিও, এমনকি ভোটকেন্দ্রেও যাতে শুনানির ব্যবস্থা করা যায়, সেই উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। যেমন কলকাতায় যেহেতু ডিএম অফিস নেই, এখানে জেশপ বিল্ডিংয়ে ডিইও অফিস এবং পুরসভার বিভিন্ন বড়ো দপ্তরে শুনানির ব্যবস্থা করা হতে পারে। কমিশনের হিসেব বলছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটার ডাক পেতে চলেছেন হিয়ারিংয়ে। সংখ্যাটা ২০ লক্ষেরও বেশি। এছাড়া সামনের সারিতে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ। এই দুই জেলাতেই প্রায় ১৬ লক্ষ। খসড়া তালিকার উদ্বেগ শেষ। এবার নয়া দুশ্চিন্তা শুনানির। আগামী সপ্তাহ থেকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ