Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে রাজ্যে হাজির ১ কোটি ৫ লক্ষ ১৬ হাজার ৫১০ জন

দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে রাজ্যে হাজির ১ কোটি ৫ লক্ষ ১৬ হাজার ৫১০ জন
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: নবম পর্যায়ের দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে রাজ্যে প্রথম পাহাড়ি জেলা কলিম্পং। দ্বিতীয় বাঁকুড়া এবং তৃতীয় মালদহ। আট দিনের ক্যাম্পে লোকসমাগমের নিরিখে এমন তালিকা প্রস্তুত করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসন সূত্রের খবর, রাজ্যের ২৩ জেলায় ক্যাম্পে হাজির হয়েছিলেন ১ কোটি ৫ লক্ষ ১৬ হাজার ৫১০ জন। এখন জেলাগুলিতে আবাদনপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদনকারীদের মধ্যে পরিষেবা প্রদান করা হবে বলে খবর। এনিয়ে প্রতিটি জেলা প্রশাসনের ব্যস্ততা তুঙ্গে। 
Advertisement
রাজ্য সরকারের নির্দেশে গত ২৪ জানুয়ারি নবম পর্যায়ে দুয়ারে সরকার কর্মসূচির সূচনা হয়। তা চলে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিটি জেলার ক্যাম্পে লোকসমাগম হওয়ার রিপোর্ট নিয়ে র‌্যাঙ্ক নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসন সূত্রের খবর, রাজ্যের মোট জনসংখ্যা ৯ কোটি ১২ লক্ষ ৮৬ হাজার ৮৪৮ জন। যারমধ্যে ২৩টি জেলার ক্যাম্পে শামিল হয়েছেন ১ কোটি ৫ লক্ষ ১৬ হাজার ৫১০ জন। যা মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১১.৫২ শতাংশ। এরমধ্যে মধ্যে প্রথম কালিম্পং জেলা। এখানকার মোট জনসংখ্যা ২ লক্ষ ৫১ হাজার ৬৪২ জন। এরমধ্যে ক্যাম্পে শামিল হয়েছেন ৬৩ হাজার ৪৪৭ জন, যা মোট জনসংখ্যার মধ্যে ২৫.২১ শতাংশ। 
কালিম্পং জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, আট দিনের ক্যাম্পে জেলায় স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ মিলিয়ে ক্যাম্প হয়েছে ৫১০টি। এরমধ্যে কালিম্পং-১ ব্লকে ১৮৫, গোরুবাথানে ১২৮, লাভায় ৭২ ও পেডং ব্লকে ৭৩টি এবং কালিম্পং শহরে ৪০টি। মোট আবেদন জমা পড়েছে ১০ হাজার ৫৫৩টি। এরমধ্যে বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় আবেদনের সংখ্যা সর্বাধিক, ২৩৭০টি। ঐক্যশ্রীতে  ১৭৮২, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ১৫৪২, বার্ধক্য ভাতায় ১৩৭৮ এবং স্বাস্থ্য সাথীতে ৭৪৫টি আবেদন জমা পড়েছে। 
জেলাশাসক বালাসুব্রহ্মণ্যম টি বলেন, আগে যেসব জায়গায় ক্যাম্প হয়নি, এবার সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলিতে ক্যাম্প করা হয়। এমনকী, দুর্গম এলাকায় হেঁটে তিন থেকে চারজনের টিম গিয়ে বাসিন্দাদের আবেদনপত্র সংগ্রহ করে। তাছাড়া ব্যানার, মাইকিং ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাম্প নিয়ে লাগাতার প্রচার অভিযান চালানো হয়েছিল। অর্থাৎ প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মী, আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এবারের ক্যাম্পে ব্যাপক লোক জমায়েত করতে পেরেছি। এজন্যই রাজ্যে প্রথম হয়েছি। এখন আবেদনপত্র যাচাইয়ের কাজ চলছে। 
এবার দ্বিতীয় স্থানে বাঁকুয়া জেলা। এই জেলার মোট জনসংখ্যা ৩৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৭৪ জন। ক্যাম্পে হাজির হয়েছিলেন ৬ লক্ষ ৪০ হাজার ১৩ জন, যা মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৭.৭৯ শতাংশ। তৃতীয় মালদহ জেলার লোকসংখ্যা ৩৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৮৪৫ জন। এরমধ্যে ক্যাম্পে শামিল হয়েছিলেন ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫১৮ জন, যা মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৭.৪৯ শতাংশ। এর বাইরে চতুর্থ পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৬.৯৫, পঞ্চম পূর্ব মেদিনীপুর ১৫.৮৭, ষষ্ঠ মুর্শিদাবাদে ১৫.৪৯, সপ্তম নদীয়ায় ১৪.৬০, অষ্টম পশ্চিম বর্ধমানে ১২.৩৮, নবম দার্জিলিংয়ে ১২.১৯, দশম দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ১১.৬৫ শতাংশ লোক সমাগম হয়েছে। এরবাইরে কোচবিহারে ১১.৫৩, হাওড়ায় ১০.০৯, উত্তর ২৪ পরগনায় ৯.৫৮, পূর্ব বর্ধমানে ৯.৪০, জলপাইগুড়িতে ৯.১৯, উত্তর দিনাজপুরে ৯.০৩, হুগলিতে ৮.০২, আলিপুরদুয়ারে ৭.৪৪, ঝাড়গ্রামে ৭.২৮, পুরুলিয়ায় ৭.২৫, বীরভূমে ৬.৭০, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৫.৪৮ এবং কলকাতায় ৫.৪৬ শতাংশ মানুষ ক্যাম্পে এসেছিল।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ