Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুয়ারে সরকারে দৃষ্টিহীনের শংসাপত্র পেল প্রীতি, মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার বাধা কাটল

দুয়ারে সরকারে দৃষ্টিহীনের শংসাপত্র পেল প্রীতি, মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার বাধা কাটল
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, চাঁচল: নিউরো সমস্যার জেরে এক বছর বয়সেই হারিয়েছে দৃষ্টিশক্তি। তারপরেও সংগ্রাম ছাড়েনি। টানা ১৬ বছর কঠিন সংগ্রাম করে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিকে বসতে যাচ্ছে সে। তার আগে ঘোর বিপাকে পড়েছিল দৃষ্টিহীন প্রীতি যাদব। বিশেষভাবে সক্ষমের শংসাপত্র না থাকায় পরীক্ষা থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছিল। অবশেষে রাজ্য সরকারের দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে মুখে হাসি ফুটল প্রীতির। শুক্রবার চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে দুয়ারে সরকার প্রকল্পের প্রতিবন্ধকতা শিবির বসে। রতুয়ার সামসি থেকে ১৪ কিমি দূরে ঠাকুরদাকে নিয়ে এদিন চাঁচলে হাসপাতালে আসে প্রীতি। হাসপাতালে চক্ষু পরীক্ষা করে আবেদন করার এক ঘণ্টার মধ্যেই বিশেষভাবে সক্ষমের শংসাপত্র পায় সে। তার হাতে শংসাপত্র তুলে দেন হাসপাতালের সুপার সুমিত তালুকদার। উপস্থিত ছিলেন সহকারী সুপার আরিফ শাহ, ত্রিদিব মাইতি ও শান্তনু কর্মকার। 
Advertisement
হাসপাতালের সুপার সুমিত তালুকদার বলেন, প্রীতি ৮০ শতাংশ দৃষ্টিহীন। সোমবার তার মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। পরীক্ষায় যাতে অনুলেখক পায়, তাই দ্রুত শংসাপত্র প্রদান করা হল। পরীক্ষায় সাফল্য পাক, শুভেচ্ছা রইল। প্রীতি সামসির বাসিন্দা। বাবা লক্ষণ যাদব মিষ্টি বিক্রেতা, মা পিঙ্কি যাদব গৃহবধূ। প্রীতি এবার সামসি সীতাদেবী বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তার পরীক্ষার আসন পড়েছে বৈদ্যনাথপুর হাইস্কুলে। সে অ্যাডমিট কার্ডও স্কুল থেকে নিয়ে এসেছে। কিন্তু অনুলেখকের জন্য বিশেষভাবে সক্ষমের শংসাপত্র প্রয়োজন হয় তা তার বা পরিবারের জানা ছিল না। তার পরিবার হাসপাতালে যোগাযোগ করলে দুশ্চিন্তা কাটে। 
চাঁচলের মহকুমা শাসক শৌভিক মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রশাসন মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য সবসময় চেষ্টা করছে। ওই পরীক্ষার্থী যাতে দ্রুত মানবিক ভাতা পায়, প্রশাসনের তরফে তা দেখা হবে। প্রীতির পরীক্ষা ভালো হোক, শুভেচ্ছা রইল। প্রীতি বলে, অনুপনগর হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুমি ঘোষকে অনুলেখক হিসেবে বাছাই করেছি। শংসাপত্র পেয়ে চিন্তা দূর হল। পরীক্ষা যাতে ভালো হয় সেজন্য চেষ্টা করব। প্রীতির ঠাকুরদা শঙ্কর যাদব বলেন, নিউরো সমস্যার জেরে এক বছর বয়সে দৃষ্টি হারায় নাতনি। জেদ ও ইচ্ছে শক্তির জেরে ও এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। পরিবারের সবাই আমরা আনন্দিত।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ