Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ডুপ্লিকেট ভোটার কার্ড! মমতার চাপে মেনে নিল কমিশন 

ডুপ্লিকেট ভোটার কার্ড! মমতার চাপে মেনে নিল কমিশন 
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একই ‘এপিক’ নম্বরে ভিন রাজ্যের ভোটার। এমন ডুপ্লিকেট বা ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে লাগাতার তোপ দেগে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ দাবি, ছাব্বিশে বাংলায় বিধানসভা ভোটে কোনও ‘মাইক্রো ম্যানেজমেন্টে’র ছক কষছে বিজেপি। ঠিক দিল্লি-মহারাষ্ট্রের মডেলে। ডুপ্লিকেট ভোটারের এই অভিযোগ যে ফাঁকা আওয়াজ নয়, তার প্রমাণও মিলছে। প্রতিদিন। বিষয়টিকে জাতীয় স্তরে তুলে বিজেপি ও ভারতের নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াবে বলেও ঠিক করেছে তৃণমূল। আজ সোমবারই নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এই ‘মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে সরব হবেন তৃণমূলের তিন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ এবং কীর্তি আজাদ। আর ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ভারতের নির্বাচন কমিশন স্বীকার করে নিল, ভুল হয়েছে। ডুপ্লিকেট ভোটার আছে। রবিবার ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও কমিশনের পক্ষে ডিরেক্টর অনুজ চাণ্ডক জানিয়েছেন, একই এপিক নম্বরে একাধিক রাজ্যে ভোটার কার্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে তা হয়েছে নথিভুক্ত ব্যবস্থার বিকেন্দ্রিকরণ এবং হাতেকলমে কাজটা করার জন্য। কয়েকটি রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকরা একই ‘আলফানিউমেরিক’ সিরিজ ব্যবহার করে ফেলেছেন। সেই কারণেই কিছু ক্ষেত্রে একই এপিক নম্বর ভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে, ভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকায় দেখা গিয়েছে। এই ত্রুটি শুধরে নেওয়া হবে।
Advertisement
ঘটনাচক্রে বাংলার ভোটার তালিকায় থাকা এপিক নম্বরের খোঁজ মিলেছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, গুজরাতের বিধানসভা এলাকাতেও। এ ধরনের ‘যমজ এপিক’ নম্বরের ঘটনা আগে কখনও সামনে আসেনি। ১৯৯৩ সালে দেশের তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের সময়ে চালু হয়েছিল এপিক। সচিত্র এই ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এখন নতুন আন্দোলন মমতার। ভূতুড়ে ভোটারের বিরুদ্ধে। চাপে পড়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ‘ডুপ্লিকেট এপিক নম্বরের বিষয়টি ‘ইউরোনেট’ প্ল্যাটফর্মে শুধরে নেওয়া হবে। প্রত্যেক ভোটারকে ইউনিক এপিক নম্বর দেওয়া হবে। অর্থাৎ একের সঙ্গে অন্যের কোনও মিল থাকবে না। উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।’ ইউরোনেট কী? কেন্দ্রীভূত কম্পিউটার ব্যবস্থায় ভোটার তালিকা তৈরি। 
‘ভুলে’র সাফাই দিতে গিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এপিক তথা সচিত্র ভোটার কার্ডের নম্বর এক হতে পারে। তার মানে তাকে ভুয়ো ভোটার বলা যাবে না। কারণ, এপিক নম্বর এক হলেও বিধানসভা কেন্দ্রের নাম, বুথ নম্বর আলাদা হয়। ফলে নির্দিষ্ট ভোটাররা তাঁদের নির্দিষ্ট কেন্দ্রেই ভোট দিতে পারেন। অন্যত্র নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এপিক নম্বর নকলের কথা জানা সত্ত্বেও এতদিন কেন শুধরে নেয়নি কমিশন? কারিগরি ক্রটির কারণ দেখিয়ে এখন সাফাই দিচ্ছে কেন? 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ