নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের যুবক-যুবতীদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে রাজ্য। এর মাধ্যমে নিজস্ব ব্যবসা শুরুর সময় পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ পেতে সাহায্য করে রাজ্য সরকার। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্য করতে প্রয়োজন নিখুঁত পরিকল্পনার। ঋণ পেতে গেলে সেই পরিকল্পনা ডিপিআর (ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট) আকারে জমা দিতে হয় ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের আবেদনকারীকে। স্বাভাবিক কারণেই অনেকের পক্ষে এই ধরনের রিপোর্ট তৈরি করে দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে ইচ্ছা থাকলেও নিজস্ব কোনও ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে হোঁচট খেতে হয় তাঁদের। এবার রাজ্য সরকারের ক্ষুদ্রশিল্প দপ্তরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এরকম ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ডিপিআর তৈরিতে সাহায্য করবে রাষ্ট্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ব্যাঙ্ক (নাবার্ড)। নাবার্ডের অধীন পরামর্শ প্রদানকারী শাখা ‘ন্যবকনস’ ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের আবেদনকারীদের ডিপিআর তৈরিতে সাহায্য করবে। এই উদ্যোগ একদিকে যেমন যুবক-যুবতীদের ঋণ পেতে সাহায্য করবে, সেই সঙ্গে সাফল্য এবং আয়ের হারও বৃদ্ধি পাবে তাঁদের।
Advertisement
শুক্রবার শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে নাবার্ডের রাজ্যস্তরের ‘ঋণ সম্মেলন ২০২৫’-এ উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাত মিশ্র, কৃষিদপ্তরের প্রধান সচিব ওঙ্কার সিং মিনা, নাবার্ড কলকাতার চিফ জেনারেল ম্যানেজার পি কে ভরদ্বাজ, আরবিআইয়ের কলকাতার চিফ জেনারেল ম্যানেজার ম্যারি এলএনসি গুইত, এসবিআই কলকাতা জোনের সিজিএম সত্যেন্দ্র কুমার সিং, এসএলবিসি’র জেনারেল ম্যানেজার বলবীর সিং প্রমুখ। সেই সম্মেলনে রাজ্যের কৃষি, রপ্তানি, ক্ষুদ্র শিল্প, আবাসন সহ অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলিতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সম্ভাব্য ঋণ প্রদানের সীমা উল্লেখ করে ‘স্টেট ফোকাস পেপার’ প্রকাশ করে নাবার্ড। আগামী অর্থবর্ষে এসব ক্ষেত্রে ৩ লক্ষ ৭৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রদানের সম্ভাবনা আছে বলে তুলে ধরা হয়। সেখানেই ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের আবেদনকারীকে ডিপিআর তৈরিতে সাহায্য করার বিষয়টি তুলে ধরেন নাবার্ডের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার প্রীতমকুমার নাথ। এ বিষয়ে ডিসেম্বর মাসেই দপ্তরের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে নাবার্ড কর্তৃপক্ষের। প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার আবেদনকারী এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।
প্রভাত মিশ্র এদিন বলেন, ‘এই যে ঋণ প্রদান হচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে তার কী প্রভাব পড়ছে, মানুষের জানা উচিত।’ তাই গত পাঁচ বছরে সামগ্রিক ঋণ প্রদান সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের জন্য নাবার্ডকে অনুরোধ করে তিনি। ওঙ্কার সিং মিনা বলেন, ‘চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে ৭৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রদান নিশ্চিত হয়েছে। আর্থিক বছরের শেষে যা এক লক্ষ কোটি ছাড়াবে বলে আশা করা যায়।’ ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
প্রভাত মিশ্র এদিন বলেন, ‘এই যে ঋণ প্রদান হচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে তার কী প্রভাব পড়ছে, মানুষের জানা উচিত।’ তাই গত পাঁচ বছরে সামগ্রিক ঋণ প্রদান সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের জন্য নাবার্ডকে অনুরোধ করে তিনি। ওঙ্কার সিং মিনা বলেন, ‘চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে ৭৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রদান নিশ্চিত হয়েছে। আর্থিক বছরের শেষে যা এক লক্ষ কোটি ছাড়াবে বলে আশা করা যায়।’ ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।



