নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীত পড়লেই সংগীতমুখর হয়ে ওঠে মহানগরী। সেই সাংগীতিক উৎসব আবহের অন্যতম আকর্ষণ ‘দ্য ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স’। দেখতে দেখতে ৭৪ বছরে পা দিল শাস্ত্রীয় সংগীত-নৃত্যের চারদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান। আগামী বছর ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি সুর-ছন্দের এক অসাধারণ যুগলবন্দির সাক্ষী থাকবে নজরুল মঞ্চ। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তারই প্রস্তুতির সূচনা হল। শিল্পপতি সঞ্জয় বুধিয়া, সত্যম রায়চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, পণ্ডিত বুধাদিত্য মুখোপাধ্যায়, পণ্ডিত সমর সাহা, রুচিরা কেদার, শিঞ্জিনী কুলকার্নি, মনোতোষ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। এবছর সংগীত সম্মান পাচ্ছেন বিশিষ্ট কণ্ঠসংগীত শিল্পী অজয় পোহানকর। তরুণ প্রজন্মের সারেঙ্গি শিল্পী আমান হুসেনকেও সম্মানিত করা হবে।
চার রাতের এই মহা আয়োজনে কণ্ঠসংগীত পরিবেশন করবেন রুচিরা কেদার, অজয় পোহানকর, স্নিতি মিশ্র, নির্মাল্য দে, ডঃ সোমা ঘোষ, হরিশ তিওয়ারি, সুমন ঘোষ, গুলাম আব্বাস খান, আরমান খান। যন্ত্রসংগীতে থাকছেন সৌগত রায়চৌধুরী, পূর্বায়ন চট্টোপাধ্যায়, ডঃ এম ললিতা, ডঃ এ নন্দিনী, অভিষেক লাহিড়ী, সিরাজ আলি খান, অভয় রুস্তম সোপোরি, বুধাদিত্য মুখোপাধ্যায়, রূপক কুলকার্নি, নয়ন ঘোষ, তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার। গুরু-শিষ্য পরম্পরা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনিন্দ্য-অনুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের যৌথ তবলা লহরার মাধ্যমে সেই গৌরবময় ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে ডোভারলেন। শাস্ত্রীয় নৃত্যে থাকছেন মীরা সন্তোষ আইয়ার (ভারতনাট্যম), সুলগ্না ভট্টাচার্য (ওড়িশি), মীনাক্ষী শেশাদ্রি (ভারতনাট্যম), শিঞ্জিনী কুলকার্নি (কত্থক)।
পণ্ডিত সমর সাহা বলেন, ‘পুজো মানেই রাত জেগে ঠাকুর দেখা। তার তিনমাস পরেই ডোভার লেন। এটা যেন সংগীতের পুজো।’ অনুষ্ঠানের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সঞ্জয় বুধিয়ার কথায়, ‘তবে ডোভার লেনের ঐতিহ্য সম্পূর্ণ আলাদা।’ শিঞ্জিনীর কথায়, ‘আমার দাদু (পণ্ডিত বিরজু মহারাজ), কাকা এখানে অনুষ্ঠান করেছেন। সেই পরম্পরা বজায় রাখতে পেরে আমি গর্বিত।’