


সংবাদদাতা, কল্যাণী: দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ভাগীরথী নদীর পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু হয়নি। ভাঙন এখনও অব্যাহত কল্যাণী ব্লকের চান্দুরিয়া-২ পঞ্চায়েতের সান্যালচর এলাকায়। তবে এবার কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার গঠনের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের বিশ্বাস, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের উদ্যোগে হয়তো বহু পুরনো নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সান্যালচর এলাকায় ভাগীরথীর ভয়াবহ ভাঙন চলছে। নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে হাজার হাজার বিঘা চাষের জমি। ভাঙনে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় স্কুল থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের একাধিকবার জায়গা পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে থামেনি ভাঙনের থাবা।
এদিনও নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, এখনও মাঝেমধ্যে ঝুপ ঝুপ শব্দে মাটি খসে পড়ছে নদীর জলে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। নদীর ধারে হাতে গোনা কয়েকটি দোকান রয়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় চলে গিয়েছেন। তবুও নদী এখনও খুব একটা দূরে নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মহেশ্বরী বিশ্বাস বলেন, প্রতি বছর ভাঙনের জন্য দোকান সরিয়ে নিতে হয়েছে। এখনও নদী খুব একটা দূরে নয়। ভাঙনের ভয়ে রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না। নদীভাঙন রোধের একটা স্থায়ী ব্যবস্থা হলে আমরা অন্তত নিশ্চিন্তে থাকতে পারতাম।
সান্যালচর কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এবারের নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির অনুপম বিশ্বাস জয়ী হয়েছেন। এলাকার মানুষের আশা, নতুন বিধায়ক উদ্যোগ নিলে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বিধায়ক অনুপম বিশ্বাস বলেন, এখন ডবল ইঞ্জিনের সরকার হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ওই এলাকায় ভাগীরথী নদীর ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। নিজস্ব চিত্র