Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেওর জেলে, মামলার খরচ জোগাতে মাদক পাচার বউদির

দেওর জেলে, মামলার খরচ জোগাতে মাদক পাচার বউদির
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দেওর জেলে। মামলার খরচ জোগাতে মাদক পাচার বউদির। তবে একা কারবার সামলানো মুশকিল বুঝে সে সঙ্গী করেছিল আরও এক মহিলাকে। দু’জনকেই বমাল গ্রেপ্তার করল জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিস। ধৃতদের নাম রিঙ্কু দাস ও পিঙ্কি দে। তাদের কাছ থেকে ১৩ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা এবং ১৯৬ বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। রিঙ্কুর বাড়ি নিউ জলপাইগুড়ির জনতানগর এলাকায়। পিঙ্কি শিলিগুড়ির প্রধাননগরের চম্পাসারির বাসিন্দা। শনিবার তাদের জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়। কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, মাদক পাচারের অভিযোগে দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা একটি টোটোতে করে মাদক পাচারের চেষ্টা করছিল। টোটোচালকও এই কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে মনে হচ্ছে। সে পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। টোটোটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে খবর, রিঙ্কুর দেওর মাদক মামলায় গত পাঁচমাস ধরে জলপাইগুড়ি জেলে। ওই মামলা চালানোর খরচ জোগাড় করতেই সে মাদক পাচারের কারবারে নাম লেখায়। কারবারে পিঙ্কিকে সঙ্গী করেছিল রিঙ্কু। দু’জন মিলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন শহরে নম্বরবিহীন টোটোতে চেপে যাত্রী সেজে মাদক পাচার ও বিক্রি করত। শুক্রবারও তারা জলপাইগুড়িতে যে টোটোতে করে মাদক নিয়ে যাচ্ছিল, সেটিরও নম্বর নেই। ফলে ওই টোটোর মালিক কে, তা খুঁজে বের করতে পুলিসকে যথেষ্টই বেগ পেতে হচ্ছে।  
পুলিস জানিয়েছে, ওই দুই মহিলা হলদিবাড়ি থেকে গাঁজা এবং কাফ সিরাপ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু সেগুলি কোথায় ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল, সেটাই এখন জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। তবে পুলিসের প্রাথমিক ধারণা, জলপাইগুড়িতেই ওই মাদক ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। 
শুক্রবার সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি শহরের বেগুনটারিতে একটি দুর্ঘটনা সবকিছু ফাঁস করে দেয়। অভিযোগ, যে টোটোতে মাদক পাচার হচ্ছিল, সেটি হেড লাইট জ্বালিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ছুটছিল রাস্তা দিয়ে। কোনও যানবাহনকে পাশ না দিয়ে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল টোটোটি। এটা করতে গিয়েই উল্টোদিক থেকে আসা একটি খালি টোটোকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে মাদক বহনকারী টোটোটি। এতটাই জোরে ধাক্কা লাগে যে, টোটোয় থাকা দুই মহিলা ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়। ঘটনাটি দেখতে পেয়েই চলে আসেন কাছেই কর্তব্যরত এক ট্রাফিক পুলিসকর্মী। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই দুই মহিলাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এরই মধ্যে পালিয়ে যায় মাদক বহনকারী টোটোর চালক। পুলিস তল্লাশি চালাতেই দেখে, টোটোর সিটের নীচে এবং টোটোয় রাখা একাধিক ব্যাগে গাঁজা ভর্তি। রয়েছে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপও। এরপরই ওই দুই মহিলাকে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে নিয়ে আসা হয় থানায়। বাজেয়াপ্ত করা হয় মাদক বহনকারী টোটোটিও।
সম্পর্কিত সংবাদ