Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডি-অপারেশনে চাঞ্চল্যকর তথ্য, ২০ হাজারে ভ্রূণহত্যা, ভিড় জমাচ্ছে ভিনরাজ্যের মহিলারাও

ডি-অপারেশনে চাঞ্চল্যকর তথ্য, ২০ হাজারে ভ্রূণহত্যা, ভিড় জমাচ্ছে ভিনরাজ্যের মহিলারাও
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘অপারেশন ডি’। বর্ধমানের নবাবহাট বা খোসবাগানে এই দু’টি শব্দ অতি পরিচিত। বিশেষ করে যারা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত তাদের মুখে মুখে ফেরে অপারেশন ডি। ২০ হাজার টাকাতেই চলে এই অপারেশন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের নবাবহাট, তেলিপকুরসহ বিভিন্ন জায়গায় মৃত ভ্রুণ হামেশাই উদ্ধার হয়। কোনও ভ্রুণের বয়স তিন মাস আবার কোনটি পাঁচ মাসের। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই তদন্তকারীরা ‘অপারেশন ডি’র কথা জানতে পারেন। অ্যাবরশন বা গর্ভপাত করাকেই সংক্ষেপে ডি বলা হয়। কেউ যাতে বিষয়টি বুঝতে না পারে সেইজন্য এই সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করা হয়। পুরো অপারেশন সফল করার জন্য এরাজ্যর বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ঝাড়খণ্ডেও ‘দালাল’ নিয়োগ করা হয়েছে। তারাই সন্তান সম্ভবা মহিলাদের গর্ভপাত করার জন্য নিয়ে আসে। তার বিনিময়ে তারা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা কমিশন পায়। 
Advertisement
এক আধিকারিক বলেন, কোনও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও ডাক্তার ছাড়া এধরনের অপারেশন করাও যায় না। কারা এই সিন্ডিকেট চালাচ্ছে তা স্পষ্ট। কিন্তু তাদের পাকড়াও করতে হলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কোনও প্রসূতিকে কোথাও ভর্তি করার সময় কোনও প্রমাণ রাখা হয় না। রেজিস্টারে নাম উল্লেখ থাকে না। হাতেনাতে পাকড়াও না করলে সিন্ডিকেট ভাঙা যাবে না। গত এক বছরে পাঁচ থেকে সাতটি ভ্রুণ শহরের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার হয়েছে। গত বছর নবাবহাটে একসঙ্গে দু’টি মৃত ভ্রুণ উদ্ধার হয়েছিল। 
তেলিপকুরের বাসিন্দা সৌরভ দাস বলেন, রাতের অন্ধকারে ভ্রুণ নিয়ে এসে জঙ্গলে ফেলা হয়। কেউ টের পায় না। শনিবার তেলিপুকুর থেকে তেজগঞ্জ যাওয়ার রাস্তায় মৃত ভ্রুণ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিসকে খবর দেয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সেটি উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কেউ পাকড়াও হয়নি। সন্দেহজনক কাউকে জেরাও করা হয়নি। 
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে যে বা যারা এই কাজ করছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা উচিত। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, অনেক দিন ধরেই এমনটা হয়ে আসছে। আচমকা বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হবে। এছাড়া সোর্স কাজ লাগানো হচ্ছে। 
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, খোসবাগান এবং নবাবহাটে দালালরাজ বহু দিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে। তারাই এই দু’টি এলাকা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের নেটওয়ার্ক বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড, অসমে সক্রিয় রয়েছে। তারা সেসব রাজ্য থেকেও প্রসূতিদের নিয়ে আসে বলে অভিযোগ।
 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ