Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খুলল দুয়ার, জগন্নাথ দর্শনে ভক্তের স্রোত

খুলল দুয়ার, জগন্নাথ দর্শনে ভক্তের স্রোত
  • ১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, দীঘা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যলগ্নে দীঘার মন্দিরের দ্বার খুলে যেতেই জগন্নাথকে প্রথম দর্শনে উপচে পড়ল ভক্তের ভিড়। 

Advertisement

মন্দির উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণ নির্ধারিত ছিল বিকেল তিনটে ১০ মিনিট। ঘড়ির কাঁটা ধরে ফিতে কাটেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই জগন্নাথ প্রভুর দর্শনে ছিল তারকা সমাবেশ। বিকেল ঠিক পাঁচটা। সবার জন্য খুলে দেওয়া হয় মন্দিরের দরজা। এতক্ষণ মূল গেটের বাইরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন ভক্তরা। গর্ভগৃহের দরজা খুলে যেতেই সবাইকে আর ধরে কে! সৈকতজুড়ে আবেগ উন্মাদনার ঢেউ। কিন্তু পুলিস-প্রশাসনের সৌজন্যে ভক্তের ভিড় সুশৃঙ্খল। লাইন দিচ্ছেন সকলেই। সেই লাইন দীর্ঘ দীর্ঘ হতে হতে চোখের বাইরে। প্রভুকে প্রথম দর্শন করতে এগচ্ছে ধীর লয়ে। বেরিয়ে যাচ্ছে প্রস্থান পথে। বেরিয়েই সুবিশাল মন্দির প্রাঙ্গন। সাজানো গোছান সবকিছু। চোখ ধাঁধানো স্থাপত্য। ভক্তদের সবকিছু ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন পুলিস-প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা। দেখতে দেখতে কারও কারও মন্তব্য, ‘চমৎকার! অপূর্ব সৃষ্টিকর্ম।’ সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন। মন্দিরের সামনে খোলা জায়গায় আসর বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। খর বৈশাখে মাথার উপর চড়া রোদ। তাকে উপেক্ষা করেই মন্ত্রমুগ্ধের মতো ভক্তিগীতি, কীর্তন শুনতে থাকলেন অদিতি মুন্সি, জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপঙ্কর বাগচী এবং ইন্দ্রনীল সেনের গলায়। নৃত্যে সৌরভ-ঘরণী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর দল। দর্শকাসনে এক ঝাঁক টলিউড নক্ষত্র—প্রসেনজিৎ, দেব থেকে আরও অনেকেই। উপস্থিত ইস্কন, বেলুড় মঠ, রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, জয়রামবাটি, কামারহাটি, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটা, চাকলা ধাম, কচুয়া ধাম, দক্ষিণেশ্বর ও কালীঘাট মন্দিরের সেবাইত সহ সাধুসন্তরা। শিল্প আর আধ্যাত্মিকতার এ এক দুর্দান্ত মেলবন্ধন! দীঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সামান্য কিছুটা গেলেই ওড়িশা বর্ডার। ওই একই পথ ধরে যাওয়া যায় নীলাচলে। মাত্র সাড়ে সাত ঘণ্টার পথ। এদিন ভক্তদের অনেকেই বলছিলেন, দুই প্রভুর দর্শন এবার একসঙ্গেই করা যাবে। দীঘার মন্দিরটিও অবিকল পুরীর মন্দিরের মতোই। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরের স্থাপত্য নির্মাণে ইঞ্জিনিয়ার থেকে স্থাপত্যশিল্পী এবং শ্রমিক সহ যুক্ত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘রত্নবেদির উপর পাথরের পাশাপাশি নিমকাঠের জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহও রয়েছে। তৈরি হয়েছে চৈতন্যগেটও। এই মন্দির হাজার হাজার বছর তীর্থস্থান হিসেবে সমুদ্র সৈকতে উন্মাদনার প্লাবন তৈরি করবে।’
গত বছর মুখ্যমন্ত্রী দীঘায় এসে অক্ষয় তৃতীয়ায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। তখন থেকেই প্রতীক্ষার প্রহর গোনা শুরু। কাঁথির মাজিলাপুর থেকে বিবেকানন্দ জানা, প্রভাতী জানা সহ অনেকেই সকাল থেকে মন্দিরের এক নম্বর গেটের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন। ভিআইপি গেটের সামনে পুলিস বার বার এলাকা ফাঁকা রাখার চেষ্টা করেছে। প্রথম দিনেই মন্দিরে ঢোকার সাক্ষী থাকতে ঠায় দাঁড়িয়েছিলেন হাজার হাজার ভক্ত। 
চন্দ্রকোণার যাদবপুর গ্রামে বাড়ি বহুরূপী তৃণাঙ্কুর পালের। এদিন কৃষ্ণ সাজে মন্দিরের প্রধান গেটের বাইরে দর্শনার্থীদের বিনোদন জুগিয়ে গিয়েছেন তিনি। তৃণাঙ্কুর বলছিলেন, ‘দীঘার জগন্নাথ মন্দির এক অবাক সৃষ্টি। এখানে এসে না দেখলে বিশ্বাস করা যেত না। আমি চাই, এরাজ্য থেকে দেশের নানাপ্রান্ত থেকে মানুষজন এই আশ্চর্য স্থাপত্যশৈলী দেখুন। যুগ যুগ ধরে এই সৃষ্টির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম থেকে যাবে।’ মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে বলেন, দীঘা এবার থেকে পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি তীর্থস্থান হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করল। মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’ জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিকের কথায়, ‘স্বাধীনতার পর সম্ভবত এত সুন্দর স্থাপত্যশিল্প আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলাবাসী কৃতজ্ঞ থাকবেন। দীঘা আজ থেকে তীর্থস্থান হিসেবে গরিমা অর্জন করবে।’ 
                                 মন্দির দর্শনে ভক্তরা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ