Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভিড়ে বন্ধই হল না দরজা! খালি করা হল রেক, মেট্রোয় চরম ভোগান্তি

সকাল থেকে ভোগান্তি আর মেট্রো রেল, যেন সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়াল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যাত্রীরা অভিযোগ করছিলেন, মহানায়ক উত্তমকুমার (টালিগঞ্জ) থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম (বৃজি) পর্যন্ত মেট্রোর জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ভিড়ে বন্ধই হল না দরজা! খালি করা হল রেক, মেট্রোয় চরম ভোগান্তি
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল থেকে ভোগান্তি আর মেট্রো রেল, যেন সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়াল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যাত্রীরা অভিযোগ করছিলেন, মহানায়ক উত্তমকুমার (টালিগঞ্জ) থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম (বৃজি) পর্যন্ত মেট্রোর জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তার ফলে মেট্রোতে প্রচণ্ড ভিড় হচ্ছে। যদিও মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, এই অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। ওই রুটে সকালের দিকে কোনও সমস্যা হয়নি। সন্ধ্যা হতেই পরিস্থিতি একেবারে বদলে যায়। অভিযোগ, ভিড়ের চাপে শোভাবাজার-সুতানটি মেট্রো স্টেশনে দরজা বন্ধ হচ্ছিল না। তার জেরে রেক খালি করতে হয়। অফিসযাত্রীদের জন্য সকালে যেমন চরম ভোগান্তি পোয়াতে হয়েছে, তেমনই সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাড়ি ফিরতেও একই সমস্যায় পড়তে হল নিত্যযাত্রীদের। সমস্যা আরও বাড়বে রবিবার। ওইদিন সকাল ন’টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত মহানায়ক উত্তমকুমার থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা বন্ধ থাকবে। জানা গিয়েছে, শহিদ ক্ষুদিরামে মেট্রো রেক ঘোরানোর পরিকাঠামো তৈরির জন্য এই কাজ চলবে। 

Advertisement

রবিবার মানেই বাঙালির পুজোর বাজারের দিন। অনেকেই দুপুরের দিকে বাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ শহরতলি থেকে মেট্রোতে নিউ মার্কেট বা গড়িয়াহাট যাওয়ার পরিকল্পনা আপাতত ইতি টানতে হবে বাঙালিকে। সূত্রের খবর, কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) মেট্রো স্টেশনে বিপর্যয়ের পর সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। মেট্রো রেক ঘোরানোর জায়গা টালিগঞ্জ ও নিউ গড়িয়া। যাত্রীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই মেট্রো রেক টালিগঞ্জ পর্যন্ত যাচ্ছে। সেখান থেকেই ঘোরানো হচ্ছে। যার ফলে টালিগঞ্জ থেকে বৃজি এলাকার যাত্রীদের জন্য সমস্যা বাড়ছে। যদিও মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, মাঝেমধ্যে হয়তো একটি ট্রেন টালিগঞ্জ দিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। 
এদিকে, এদিন সন্ধ্যায় হাওড়া-শিয়ালদহ থেকে প্রচুর মানুষ এসপ্ল্যানেড স্টেশনে নেমে উত্তর-দক্ষিণের পথে মেট্রো ধরতে যান। তখনই তীব্র ভিড় হয় বলে খবর। সূত্রের খবর, শোভাবাজার-সুতানটি স্টেশনে ভিড়ের চাপে দরজা খারাপ হয়ে যায়। কিছুতেই বন্ধ হতে চায় না দরজা। মোটরম্যান এসেও চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়, রেকটি যেন খালি করে দেওয়া হয়। শোভাবাজারে স্টেশনে কিছুক্ষণের জন্য দক্ষিণেশ্বরগামী ট্রেনের টিকিট দেওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার ফলে আধ ঘণ্টারও বেশি সময় মেট্রো সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে বলে অভিযোগ। একইভাবে বিভিন্ন স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য টিকিট কাটার পর প্ল্যাটফর্মে নামতে বারণ করা হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু স্টেশনে কলকাতা পুলিসের সাহায্য নিতে হয়। সবমিলিয়ে নিত্যযাত্রীরা বেজায় চটে যান। স্টেশনে দাঁড়িয়েই অনেকে ক্ষোভ উগড়ে দেন। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রচণ্ড ভিড়ে মেট্রোতে ওঠাই এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একদিকে পুজোর বাজার শুরু হয়ে গিয়েছে। তার উপর নিত্যযাত্রীদের ভিড়। উত্তর-দক্ষিণ ছাড়াও বিমানবন্দর, সল্টলেক রুটেও মেট্রো চালু হয়ে গিয়েছে। ফলত, এই সময় দাঁড়িয়ে বিরাট সংখ্যায় যাত্রীরা মেট্রোর উপরেই নির্ভর করছেন। কিন্তু সেই মেট্রোয় সারাটা দিন এমনই ভোগান্তির চিত্র দেখল শহরবাসী।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ