সংবাদদাতা, কান্দি: দিন বা রাতে এক ফোনেই রোগীর বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেখানে গিয়ে রোগীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হচ্ছে। বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কান্দি পুরসভার উদ্যোগে এই ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ পরিষেবা শুরু হয়েছে। শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে এই পরিষেবা খুবই জনপ্রিয় হয়েছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটক বলেন, ২০১৮-১৯ সাল থেকেই আমরা শহরে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এতদিনে সাফল্য পাচ্ছি। দিনে হোক বা রাতে, শহরের কোনও বাড়ি থেকে একবার ফোনকল কন্ট্রোলরুমে এলেই আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে পৌঁছে যাচ্ছেন।
কান্দি পুর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে প্রায় ৭০হাজার বাসিন্দা রয়েছেন। পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৮হাজার। কান্দি শহরেই রয়েছে মহকুমা হাসপাতাল। এছাড়া, পুরসভার তরফে জেমো এলাকায় একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। কান্দি শহর ও সংলগ্ন আন্দুলিয়া পঞ্চায়েতের মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু সহ নানাধরনের রক্তপরীক্ষার ব্যবস্থাও এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে। বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, শহরের রষোড়া ও ছাতিনাকান্দি এলাকায় দু’টি সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হয়েছে। শহরে প্রায় ২৯লক্ষ টাকা ব্যয়ে কান্দি অ্যাথলেটিক ক্লাবমাঠ ও হরিসাগরপাড় এলাকায় আরও দু’টি সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। সেগুলি কয়েকমাসের মধ্যে চালু হয়ে যাবে বলে পুর কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।
তবে পুরসভার উদ্যোগে দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা জনমনে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। বিশেষত দুঃস্থ পরিবারের মানুষ এই পরিষেবায় খুবই উপকৃত হচ্ছেন। জেমো এলাকার বাসিন্দা রঘুনাথ দাস বলেন, এমন একটি পুরসভার বাসিন্দা হয়ে আমরা গর্বিত। গভীর রাতে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। সেসময় স্বাস্থ্যকর্মীরা এসে যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা কখনও ভোলার নয়। তাঁদের সাহায্যের কথা সারা জীবন মনে থাকবে।
হরিসাগরপাড় এলাকার বাসিন্দা তন্ময় ঘোষ বলেন, পুরসভা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আমাদের পরিষেবা দিতে যে নিরলস কাজ করে চলেছেন, তা প্রশংসার যোগ্য। পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা গর্ভবতী ও শিশুদের প্রতি খুবই যত্নশীল।
পুরসভা সূত্রে খবর, দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এক কাউন্সিলার ও এক মহিলা নোডাল অফিসার। কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে পেরেছি। এই কর্মযজ্ঞে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের যে সহযোগিতা রয়েছে, তার জন্য কান্দির বাসিন্দা হিসেবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমাদের লক্ষ্য, মানুষকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া।