নিজস্ব প্রতিনিধি, ধুলিয়ান: গুজবে কান দেবেন না, গুজব রটাবেন না—সামশেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় টহলদারির পাশাপাশি এই সতর্কবার্তাই দিচ্ছে পুলিস-প্রশাসন। কারণ, গোলমালের নেপথ্যে যে স্রেফ গুজবই, সেটা পুলিসের প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। অসহিষ্ণুমূলক কিছু পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার থেকেই বৃহস্পতিবার গণ্ডগোল বাধে। তড়িঘড়ি জঙ্গিপুর মহকুমাজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুলিসের এই জোড়া পদক্ষেপ কার্যকরও হচ্ছে। রবিবার কোথাও কোনও গোলমালের খবর নেই। ক্রমেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে সামশেরগঞ্জ। সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার বার্তা দিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের ব্যবস্থা করার আর্জি জানিয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম। এদিন, সামশেরগঞ্জ থানায় তৃণমূল ও কংগ্রেস সাংসদের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজ্য পুলিসের শীর্ষকর্তারা। পরে জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কেউ গুজবে কান দেবেন না। কারও কোনও তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরাসরি আমাদের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করুন। আমাদের সঙ্গে কথা বলুন। আমরা বিবৃতি দিয়ে সবকিছু স্পষ্ট করে দেব।’
সামান্য রটনা থেকেই বৃহস্পতিবার জঙ্গিপুর মহকুমার তিনটি থানা এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে। সবথেকে বেশি গুজব রটে যায় শুক্রবার ও শনিবার। এমনকী মৃত্যু নিয়েও বিভ্রান্তিমূলক খবর ছড়াতে থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতেই বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত গোলমালের সূত্রপাত। পরে জানা যায়, সব খবরই ভুল। সবটাই অপপ্রচার। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পরও পড়শি ঝাড়খন্ড এবং পাকুড়ে গিয়ে কিছু যুবক গুজব ছড়িয়েছে। তাতে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে। এখন পুলিস প্রশাসনের কাছে এই গুজব ঠেকানোই বাড়তি চ্যালেঞ্জ। এদিনও জঙ্গিপুর মহাকুমাজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ছিল। ফের সময়সীমা মঙ্গলবার রাত দশটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আমরা মঙ্গলবার রাত দশটা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেউ ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াবেন না। এমন কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিস কড়া পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রথম থেকেই সদর্থক ভূমিকা নিয়ে চলেছেন জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান। পুলিস-প্রশাসনকে সর্বতোভাবে সাহায্যও করছেন। তিনি এদিন বলেন, ‘শান্তি বজায় রাখার জন্য যা যা করণীয় পুলিসকে তাই করতে বলেছি। আমরাও রাস্তায় রয়েছি। কেউ যাতে গুজব না ছড়ায় সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেকেই বিভ্রান্তিকর খবর রটিয়ে দিচ্ছে। তার থেকে নতুন করে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যারা অন্যায় করেছে তারা যাতে শাস্তি পায়, সেটা পুলিস দেখছে। শনিবার রাত থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।’ সামশেরগঞ্জের কিছুটা জায়গা মালদা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। সেখানকার কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। এদিন সামশেরগঞ্জ থানায় তিনি এসেছিলেন খবর। পরে তিনি বলেন, ‘পুলিসকে সবরকম সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত। রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনার পিছনে কারও মদত রয়েছে কিনা, সেটা পুলিসকে তদন্ত করে দেখতে বলেছি। আস্তে আস্তে সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে।’ সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘বাংলায় ধর্মীয় রাজনীতির ঠাঁই নেই। এমন রাজনীতিকে এলাকায় ঢুকতে দেবেন না। গুজব থেকে সবাই সতর্ক থাকবেন। আমরা চাই, সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটা শান্তি বৈঠক হোক।’ -নিজস্ব চিত্র