নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালে কান ফাটানো ডিজে বক্সের দাপটে বিগত কয়েক বছর ধরে রীতিমতো অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। এই ‘শব্দদানব’-এর হাত থেকে শহরবাসীকে বাঁচাতে এবং দূষণমুক্ত উৎসব করতে এবার পুজোর আগেই আসরে নামল সিউড়ি থানার পুলিশ। বুধবার শহরের মাইক ও সাউন্ড বক্স ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেন আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানিয়ে দেন, পুজোয় মণ্ডপ থেকে শুরু করে ভাসান, কোথাও ডিজে বাজানো বরদাস্ত করা হবে না। তবে, নির্দিষ্ট মাত্রায় সাধারণ সাউন্ড বক্স বাজানো যাবে।
প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ডিজের মারাত্মক ক্ষতিকারক দিকগুলি। আধুনিক ডিজের তীব্র আওয়াজ এবং বুক-কাঁপানো শব্দ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপজ্জনক। চিকিৎসকদের মতে, অতি-উচ্চগ্রামের শব্দের জেরে আচমকা রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা বয়স্ক ও হৃদ্রোগীদের জন্য প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। চিরতরে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়া, গর্ভবতী মহিলাদের শারীরিক সমস্যা এবং শিশুদের মধ্যে মানসিক আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। এমনকি, নিরীহ পশু-পাখিরাও দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিনোদনের নামে এই বিকৃত উল্লাস যাতে সাধারণ মানুষের দুর্গতির কারণ না হয় তা নিশ্চিত করতেই এদিন বৈঠক ডাকে পুলিশ। বৈঠকে আইসি ব্যবসায়ীদের হাইকোর্টের নির্দেশ মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, বক্স বাজানোর ক্ষেত্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্ধারিত যে মাত্রা রয়েছে, সেই মাত্রা যেন কোনোভাবেই অতিক্রম না করে। রাত ১১টার পর কোনোভাবেই বক্স বাজানো যাবে না। পাশাপাশি প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রায় যে গাড়িতে সাউন্ড বক্স বাঁধা হবে তা কোনোভাবেই গাড়ির স্বাভাবিক উচ্চতাকে ছাপিয়ে যেতে পারবে না। নির্দেশ অমান্য করলে পুলিশ কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। পুলিশ নির্দেশ দিয়েছে, সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া দেওয়ার আগেই পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে ব্যবসায়ীদের। চুক্তিতে এই সরকারি নিয়মগুলির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
বৈঠকে উপস্থিত সাউন্ড ব্যবসায়ী মহম্মদ দিলদার হোসেন, বিপ্লব সাধু বলেন, পুলিশের এই উদ্যোগ খুবই ভালো। এতে আমাদেরও কাজ করতে অনেক সুবিধা হবে।
এদিন কীর্ণাহার থানার পুলিশও বৈঠক করে। জিজের দাপট মেনে নেওয়া হবে না বলে বৈঠকে ওসি অমিতাভ পাল সহ অন্যান্য আধিকারিকরা জানিয়ে দেন। সরকারি নির্ধারিত শব্দসীমা মেনেই মাইক চালাতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর মাইক বাজানো যাবে না।