নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: যত না যাত্রী, তার থেকে টোটো বেশি! ইচ্ছে হলেই টোটো কিনে ভাড়া খাটতে নেমে পড়ছেন বেকার যুবকরা। ফলে রাস্তাজুড়ে টোটোর সারি। একারণেই বাড়ছে যানজট, ছোটখাট দুর্ঘটনা। টোটো নিয়ন্ত্রণে বরানগর পুরসভা বা পুলিস কোনও পদক্ষেপই নিচ্ছে না। যাতায়াত করতে শহরবাসীর নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। এর সঙ্গে রয়েছে টোটো ও অটো চালকদের নিত্য ঝামেলা। শুধু তাই নয়, রিজার্ভের নাম করে বহু ক্ষেত্রে ইচ্ছে মতো ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে টোটো চালকদের বিরুদ্ধে। এনিয়ে পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে একাধিক কাউন্সিলার সরব হয়েছেন। প্রতিটি টোটো স্ট্যান্ডে ভাড়ার তালিকা টাঙানোর দাবি উঠেছে।
শহরবাসী যখন টোটোর যন্ত্রণায় তিতিবিরক্ত, তখন খোদ টোটো চালকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাই নতুন টোটো যাতে কেউ না কেনেন, তারজন্য টোটোর পিছনে ব্যানার লাগিয়ে ঘুরছেন বহু চালক। সকলেরই দাবি, টোটো নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার। পুলিস, প্রশাসন ও পুরসভাকে এ বিষয়ে একযোগে পদক্ষেপ করতে হবে।
উত্তর শহরতলির বরানগরে ৬০০’র বেশি টোটো চলাচল করে। বহু মানুষ একাধিক টোটো কিনে তা ভাড়ায় খাটান। এরমধ্যে ৪০০ টোটো চালক আইএনটিটিইউসি ইউনিয়নের সঙ্গে রয়েছেন। এই অঞ্চলে কমবেশি প্রায় ১৫টি রুটে অটো চলে। এর বাইরেও রয়েছে প্রচুর ফ্লাইং অটো। যাত্রী তোলা নিয়ে টোটো বনাম অটোর ঝামেলা লেগেই রয়েছে। এদিকে, টোটোর সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়ে চলায় চালকরা এখন যাত্রী কম পাচ্ছেন। রিজার্ভের কথা শুনলে ঝোপ বুঝে কোপ মারছেন তাঁরা। ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে বলছেন তাঁরা। সম্প্রতি বরানগর পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে টোটো সমস্যা নিয়ে সরব হন একাধিক কাউন্সিলার। কাউন্সিলার পৃথা মুখোপাধ্যায় বলেন, শহরে টোটোর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিটি রুটে অটোর ভাড়া নির্দিষ্ট থাকলেও টোটো ও রিকশর ভাড়ার উল্লেখ নেই। বহু টোটোরং টেম্পোরারি আইডেনটিফিকেশন নম্বর (টিন) নেই। বহুক্ষেত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। প্রতিটি রুটে টোটোর ভাড়া নির্দিষ্ট করে স্ট্যান্ডে টাঙিয়ে রাখা উচিত।
এই অভিযোগ যে সত্যি, তা মানছেন টোটো চালকরাও। দক্ষিণ বরানগর প্রোগ্রেসিভ অটো ইউনিয়নের নাম করে টোটোর পিছনে ব্যানার লাগানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ১, ১৪, ১৫, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রত্যেক বাসিন্দাকে জানানো হচ্ছে যে, রুটে প্রচুর টোটো রয়েছে। ফলে নতুন কেউ টোটো কিনে রুটে নামাবেন না। এই নির্দেশ আদৌ কেউ মানবে কি না, তা অবশ্য নজরদারির কেউ নেই।
পুর চেয়ারম্যান অপর্ণা মৌলিক বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে শহরের পাঁচটি রুটে ২৫০টি টোটোকে আইডেনটিফিকেশন নম্বর দেওয়া হয়েছে। তাতে কিউআর কোড রয়েছে। এর বেশি টোটো চললে প্রশাসন পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। টোটোর ভাড়া নির্দিষ্ট করা নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে দাবি উঠেছিল। আগামী দিনে এনিয়ে আলোচনা করা হবে। -নিজস্ব চিত্র