Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ভয় পাবেন না, কেউ তাড়াতে পারবে না, পাহারাদার হিসেবে পাশে আছি’, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে অভয়বাণী মমতার

মতুয়া গড়ে দাঁড়িয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশে থাকার বার্তা ‘পাহারাদার’ হিসেবে দিয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘ভয় পাবেন না, কেউ তাড়াতে পারবে না, পাহারাদার হিসেবে পাশে আছি’, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে অভয়বাণী মমতার
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মতুয়া গড়ে দাঁড়িয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশে থাকার বার্তা ‘পাহারাদার’ হিসেবে দিয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অকপটেই জানিয়ে দিলেন, ‘প্রকৃত ভোটারদের কেউ তাড়াতে পারবে না। নাগরিকত্ব দেওয়ার নাম করে বিজেপি টাকা নিয়ে যে কার্ড বিলি করছে, সেটা আসলে প্রতারণা।’ এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে সবেচেয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন যাঁরা, সেই মতুয়াদের গড় বনগাঁর সভা মঞ্চ থেকে এই ভাষাতেই গেরুয়া শিবিরের দিকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক দিক থেকে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক লগ্নে এসআইআর প্রক্রিয়া যখন কার্যকর হচ্ছে, তখন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক-উদ্বেগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। নাগরিকত্ব থাকবে তো?—এই প্রশ্নটাই 

Advertisement

মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে প্রতিদিনই নাড়া দিচ্ছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই মঙ্গলবার বনগাঁয় পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ১২ মার্চ ২০২৪ সালে বনগাঁ এসেছিলেন মমতা। তারপর এবার এলেন ২৫ নভেম্বর ২০২৫ সালে। 
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একদিকে যেমন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন মমতা, তেমনই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশে থাকার অভয়বাণীও দিয়ে গেলেন তিনি। বললেন, ‘আজকে হঠাৎ করে কেউ কেউ আপনাদের ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু ভয় পাবেন না। প্রকৃত ভোটারদের অধিকার কেউ কাড়তে পারবে না।’ দৃশ্যত বিরক্ত মমতার প্রশ্ন, ‘২০২৪ সালের এই তালিকার নিরিখেই ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সেই ভোটার তালিকা রাতারাতি অবৈধ হয়ে গেল কী করে?’  পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, ‘আপনারা (মতুয়ারা) আতঙ্কিত হবেন না। আমি থাকতে আপনাদের কাউকে তাড়াতে দেব না। আমার উপর বিশ্বাস, ভরসা, আস্থা রাখুন।’ মমতার এই আশ্বাসবাণীতে বনগাঁর সভা প্রাঙ্গণ ‘জয় হরি বল’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে। এমনকি কাঁসর-ঘন্টা, ডঙ্কা বাজিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আশীর্বাদ আর ভরসা জোগান। জয় বাংলা—স্লোগানের সিংহগর্জনে তখন কান পাতায় দায়। 
জমায়েতকে সতর্ক করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার নাম করে বিজেপি ফাঁদ পেতেছে। সেটাতে সতর্ক থাকবেন। মমতার বক্তব্য, আপনারা মতুয়া মহাসংঘের সদস্য হোন, সে নিয়ে কিছু বলবার নেই। কিন্তু ক্যাম্প করে ১০০ টাকা নিয়ে বিজেপি নাগরিকত্বের কার্ড দেবে, এটা কী করে হয়?’ তাঁর প্রশ্ন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় কি এটা লেখা আছে, যে এই টাকার বিনিময়ে কার্ড পেলেই নাগরিকত্ব মিলবে? এটা আসলে চিট বা প্রতারণা করা হচ্ছে আপনাদের সঙ্গে। তাই সতর্ক থাকবেন।’ ধর্মীয় বিভাজন প্রকট করাই বিজেপির উদ্দেশ্য বলে মনে করেন মমতা। সেই লক্ষ্যেই সকলকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘এসআইআরের নামে এনআরসি করার চক্রান্ত।’ নাম না করে বিজেপির এক প্রভাবশালী নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মমতা তির্যক বার্তা ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘কোনও নেতা চুরি করলে তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় বিজেপি। আর তৃণমূলের কোনও নেতা অন্যায় না করলেও, তাকে গ্রেফতার করে। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে বলব, আপনারা বিবেককে জাগ্রত করুন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ