নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বরানগর: উপহারের বিনিময়ে রক্তদান বন্ধ করেই ছাড়বে রাজ্য। এমনই দাবি করে প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকগুলির একাংশের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে ঘনঘন সোচ্চার হয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। করেছেন সাংবাদিক বৈঠকও। উপহারের বিনিময়ে রক্তদান, ভিন রাজ্যে প্লাজমা পাঠানো ইত্যাদি ইস্যুতে রাজ্যে কতবড় দুর্নীতি-অনিয়ম চলছে—তার বিবরণও দিয়েছেন। ডজনখানেক প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংক বাইরের রক্তদান শিবির করা বন্ধ করেছে।
এদিকে রক্তদান আন্দোলনের কর্মীরাই বলছেন, সর্ষের মধ্যেই তো রয়েছে ভূত! হিমোগ্লোবিন ও ওজন পরীক্ষা না করেই রমরমিয়ে সরকারি ব্লাড ব্যাংক আয়োজিত রক্তদান শিবির চলছে। দেখেও চোখে ঠুলি পড়ে আছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তর। আর প্রধান যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন মন্ত্রী, সেই উপহারের বিনিময়ে রক্তদান শিবির তো চলছে সরকারি ব্লাড ব্যাংকের মদতেই। তাও আবার এশিয়ার প্রাচীনতম এবং রাজ্যের বৃহত্তম সরকারি প্রতিষ্ঠান মানিকতলার সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক পরিচালিত রক্তদান শিবিরেও এমন ঘটেছে বলেও উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এ কেমন দ্বিচারিতা? ডজনখানেক প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অথচ ঘরের অনিয়মে চোখ বুজে থাকা? লোক দেখে বুঝে তবেই কি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা?’
দেশজুড়ে রক্ত পরিষেবার নিয়ন্ত্রক ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল (এনবিটিসি) ২০০৭ সালে ‘ভলান্টারি ব্লাড ডোনেশন’ (ভিবিডি) সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রকাশ করে। স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, কোনও রক্তদান শিবিরে দাতাদের অর্থ বা মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করে এমন কিছু দেওয়া চলবে না। নিয়মভঙ্গের ঘটনাটি ঘটেছে ১৬ আগস্ট, রবিবার। সকাল ১০টা নাগাদ বিরাটির শ্রীনগর এলাকার একটি রিক্রেয়েশন ক্লাব ও সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক পরিচালিত ওই রক্তদান শিবিরের দাতাদের উপহার দেওয়া হয়েছে বিশালাকার লাল বালতি। অভিযোগ, এ বিষয়ে ওই ক্লাবের কর্তার বক্তব্য জানতে ফোন করার পরই তাঁরা বিতর্ক এড়াতে দাতাদের কাছ থেকে বালতিগুলিই ফেরত নেন। শিবির থেকেই সেগুলি দেওয়া হয়েছে, সে প্রমাণ লোপ করতে রক্তদান সংক্রান্ত স্টিকারও খুলে দেন। তারপর দাতাদের তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বিশাল লাল বালতি নিয়ে ওই শিবির থেকে দাতারা বেরিয়ে আসছেন, এই ছবি দেখা গিয়েছে ঘটনাস্থলে। তা সত্ত্বেও উদ্যোক্তাদের পক্ষে সুখময় আচার্য নামে ওই ক্লাবের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ‘আপনাদের কাছে ভুল তথ্য আছে। আসলে আমাদের ওইদিন বাচ্চাদের ‘বসে আঁকো’ ও বয়স্কদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানেই বালতি দেওয়া হয়।’ প্রশ্ন হল, বয়স্কদের সংবর্ধনা বা বসে আঁকোর কৃতী শিশুকে পুরস্কৃত করতে কেউ কি কোনওদিন বালতি উপহার দেন?
রক্তদান আন্দোলনের কর্মী অচিন্ত্য লাহা বলেন, ‘প্রাইভেট বা সরকারি ব্লাড ব্যাংক, কাউকেই ছাড় না দিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুক নয়া সরকার।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতবাবু বলেন, ‘সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক পরিচালিত শিবিরে উপহারের বিনিময়ে রক্তদান হয়েছে, এমন তথ্যপ্রমাণ পেলে নিশ্চয়ই বিষয়টি দেখব।’