Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেওয়ানগঞ্জ ফেরিঘাটে অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি, অভিযোগ গ্রামবাসীদের

দেওয়ানগঞ্জ ফেরিঘাটে অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি, অভিযোগ গ্রামবাসীদের
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: লরি পিছু ৭০০ টাকা। চারচাকা গাড়ির জন্য ১৫০ টাকা। খেয়া পারাপারের জন্য বেলাগাম মাশুল নেওয়া হচ্ছে কালীগঞ্জ ব্লকের মাটিয়ারি দেওয়ানগঞ্জ খেয়া ঘাটে। নতুন বছরে পূর্ব বর্ধমান দাঁইহাট দেওয়ানগঞ্জ ফেরিঘাটের ইজারাদার খেয়া পারাপারের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ নদীয়া জেলার কালীগঞ্জের বাসিন্দারা। মাটিয়ারি পঞ্চায়েতের তরফ থেকে গ্রামবাসীদের একটি লম্বা পিটিশন জমা পড়েছে কালীগঞ্জ বিডিও অফিসে। খেয়া পারাপারের ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য আবেদন করা হয়েছে গ্রামবাসীদের তরফ থেকে।
Advertisement
কালীগঞ্জের বিডিও অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘গ্রামবাসীদের একটা অভিযোগপত্র পেয়েছি। সেখানে মাটিয়ারি-দাঁইহাট ফেরিঘাটের ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। যেহেতু ফেরিঘাট পূর্ব বর্ধমান জেলার নিয়ন্ত্রণাধীন, তাই বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
উল্লেখ্য, দেওয়ানগঞ্জ ফেরিঘাটে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ খেয়া পারাপার করে। এটি কালীগঞ্জ ব্লকের মাটিয়ারি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত অন্যতম ব্যস্ত ফেরিঘাট। এই ফেরিঘাটটি মাটিয়ারি, ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দারা ব্যবহার করেন। সম্প্রতি সেখানকার ভাড়া পরিচালন কমিটি মাশুল বৃদ্ধি করেছে। এই নিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর কালীগঞ্জ ব্লক প্রশাসনকে ফেরিঘাটের ইজারাদার চিঠি দিয়ে সহযোগিতার আবেদন করেন। 
নতুন তালিকা অনুযায়ী, প্রতি লরি ও বাসের জন্য ৭০০ টাকা মাশুল ধার্য করা হয়েছে। খালি লরির জন্য মাশুল দিতে হবে ৩০০ টাকা। ছোট চার চাকা গাড়িকে ১৫০ টাকা দিতে হবে। এছাড়াও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫ টাকা, সাইকেল আরোহীদের জন্য ৬ টাকা, মোটর সাইকেল আরোহীদের জন্য ১৫ টাকা, ভর্তি রিকশ ভ্যানের জন্য ২০ টাকা মাশুল দিতে হবে। 
গত ৩১ ডিসেম্বর গ্রামবাসীদের দেওয়া পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে, আশপাশের ফেরিঘাটগুলিতে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। শুধুমাত্র দেওয়ানগঞ্জ ফেরিঘাটে ভাড়া নিয়ে বৈষম্য হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ফেরিঘাটের কর্মীদের ব্যবহার ও পরিষেবাও খুব খারাপ বলে‌ অভিযোগ জানানো হয়েছে। 
মাটিয়ারি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শাহবিল শেখ বলেন, ‘এই ঘাট দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দিনমজুর, দিনা আনা দিন খাওয়া মানুষরাও যাতায়াত করেন। এইভাবে ভাড়া বাড়ালে গ্রামের মানুষরা খুব অসুবিধায় পড়বেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। প্রশাসনের উপর আমাদের পূর্ণ ভরসা রয়েছে।’ মাটয়ারি ঘাটের এক কর্তা রামেশ্বর সরকার বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে যে তালিকা পেয়েছি তা টাঙানো হয়েছে। জানুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। তবে সমস্যা হচ্ছে। সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে।’
সম্পর্কিত সংবাদ