Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাঁদা না দিয়ে গ্রামের হোলিতে নাচানাচি, তাই নিয়ে সংঘর্ষ, জখম সাত

চাঁদা দিতে পারেননি, অথচ হোলির অনুষ্ঠানে নাচানাচি করতে এসেছেন। এই কাণ্ড প্রতিবেশীরা সহ্য করতে পারেননি।

চাঁদা না দিয়ে গ্রামের হোলিতে নাচানাচি, তাই নিয়ে সংঘর্ষ, জখম সাত
  • ১৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: চাঁদা দিতে পারেননি, অথচ হোলির অনুষ্ঠানে নাচানাচি করতে এসেছেন। এই কাণ্ড প্রতিবেশীরা সহ্য করতে পারেননি। ফলে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীদের মারে জখম হলেন একই পরিবারের সাতজন। শুক্রবার বিকেলের ওই ঘটনা ভরতপুর থানার জজান গ্রামের। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন হোলিতে গ্রামের বাগদিপাড়ায় একটি মন্দিরের সামনে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে রং খেলা হচ্ছিল। পাড়ার লোকজন চাঁদা তুলেই এই আয়োজন করেছিলেন। সেখানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রং খেলা হয়েছে নির্বিঘ্নে। কিন্তু বিকেলের দিকে আবির খেলা শুরু হয় বক্স বাজিয়ে। ভোজপুরি গানের তালে জমে উঠেছিল অনুষ্ঠান। তাই শুনে বাড়িতে বসে পারেননি গণেশ মাঝি, শরৎ মাঝিরা। সকালের দিকে তাঁরা অনুষ্ঠানে যাননি চাঁদা দিতে পারেননি বলে। কিন্তু বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ তাঁদের পরিবারের দু’জন অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচানাচি শুরু করে দেন। তাতে আপত্তি করেন প্রতিবেশীরা। চাঁদা দেননি বলে তাঁদের সেখানে নাচতে দেওয়া হবে না বলে ফতোয়া দেওয়া হয়। ধাক্কা দিয়ে সরিয়েও দেওয়া হয়। কিন্তু সেসব মানতে চাননি ওই পরিবারের লোকজন। এরপর দুইপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে যায়। পরে শরতের পরিবারের উপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চলে বলে অভিযোগ। দুইপক্ষের মধ্যে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। তাতে তিন মহিলা সহ শরতের পরিবারের সাতজন জখম হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় ভরতপুর থানার পুলিস। পুলিস পৌঁছতেই অনুষ্ঠান ছেড়ে পালায় দু’পক্ষ। 
সন্ধ্যার দিকে জখম সাতজন ভরতপুর থানায় এসে অভিযোগ জানান। পুলিস প্রত্যেককে ভরতপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। তাঁদের মধ্যে দুইজনকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। শরৎ বলেন, এদিন আমাদের কাছে টাকা ছিল না বলে চাঁদা দিতে পারিনি। তবে অনুষ্ঠানে গিয়ে ওদের বলেছিলাম শনিবার চাঁদা দিয়ে দেব। তা ওরা মানতে চাইল না। আমাদের ধরে ধরে মারল। অপরপক্ষের মাধব বাগদি বলেন, চাঁদাটা বড় ব্যাপার নয়। ওরা মদ্যপ অবস্থায় এখানে এসে গণ্ডগোল বাধাচ্ছিল। তাতে বাধা দেওয়ায় ওরা মারধর শুরু করে। ভরতপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে দু’পক্ষই মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ