Bartaman Logo
৪ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ার মণ্ডপের জন্য লাল রঙের ডাক বাক্স তৈরি করছে ডোমপাড়া

যত দিন গড়াচ্ছে লাল রঙের লোহার ডাক বাক্স যাচ্ছে হারিয়ে। এখন তা একপ্রকার লুপ্তপ্রায়। ইমেল, স্পিড পোস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপের দৌলতে চিঠি লেখাও আজ আর সেভাবে হয় না।

হাওড়ার মণ্ডপের জন্য লাল রঙের  ডাক বাক্স তৈরি করছে ডোমপাড়া
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: যত দিন গড়াচ্ছে লাল রঙের লোহার ডাক বাক্স যাচ্ছে হারিয়ে। এখন তা একপ্রকার লুপ্তপ্রায়। ইমেল, স্পিড পোস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপের দৌলতে চিঠি লেখাও আজ আর সেভাবে হয় না। অধিকাংশ মানুষ ডাক বাক্সে চিঠি ফেলেন না। তাই লাল লোহার ডাক বাক্স ক্রমশ ইতিহাস হওয়ার পথে। কিন্তু ইতিহাস যাতে পুরোপুরি না মুছে যায়, তা মনে করাতেই উত্তর কলকাতার ডোমপাড়ার শিল্পীরা পুজোর মুখে অন্যান্য শিল্পসামগ্রীর সঙ্গে তৈরি করছেন লাল ডাক বাক্স। তা আচমকা দেখলে মনে হবে আসল।

Advertisement

রামবাগানের ডোমপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এখন কাজ করছেন শিল্পীরা। তাঁদের ব্যস্ততার সীমা নেই। সকলে এখন কাজে মগ্ন। বাঁশ কেটে তৈরি করছেন শিল্পসামগ্রী। কোথাও তৈরি হচ্ছে বাঁশের মণ্ডপ, কোথাও মণ্ডপ তৈরির কারুকাজ, কোথাও পালতোলা নৌকা, কোথাও বিভিন্ন দেবদেবীর মুখ বা মণ্ডপসজ্জার গেট।  আর এসবের মধ্যেই কয়েকজন বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি করছেন অতি পরিচিত কিন্তু হারিয়ে যেতে বসা সেই ডাক বাক্স। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বাক্সের কাঠামো তৈরি করার পর তার উপর আটা দিয়ে কাগজ সেঁটে চলছে ডাক বাক্স বানানো। শিল্পীরা জানান, কাগজ শুকিয়ে যাওয়ার পর হবে রঙের কাজ। দুই শিল্পী বলেন, ‘আমাদের ভালো লাগছে এই কাজ করে। এখন তো আর নতুন করে এই ধরনের ডাক বাক্স বসানো হয় না। রাস্তায় পড়ে পড়ে নষ্ট হয়। কোথাও ভেঙে গিয়ে বা রং চটেছে বলে বাতিল করে ফেলা হয়। আমরা নকল হলেও তৈরি করছি। এই কাজ করে ভালো লাগছে।’ ডোমপাড়ায় তৈরি বাক্সগুলি যাবে হাওড়ার এক পুজো মণ্ডপে।
পুজো মরশুমে শহরের প্রতিমা আর পুজো সংক্রান্ত অন্যান্য শিল্পকর্মের ছবি তুলতে পথে বেরিয়েছেন একদল তরুণ‑তরুণী। ডোমপাড়ায় দুই ইউটিউবারকে দেখা গেল। যাদবপুরের বাঘাযতীনের বাসিন্দা সঞ্জয় পাল ও সমীর দাশগুপ্ত নামে ওই দুই তরুণ বলেন, ‘অসম্ভব সুন্দর হাতের কাজ। সেই ছবি তুলতেই এখানে আসা। কুর্নিশ জানাই শিল্পীদের। এরপর যাব কুমোরটুলি। সময় পেলেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ছবি তুলি। এটা আমাদের একটা শখ।’ বাঁশ শিল্পীদের একাংশ কিছুটা হতাশের সুরে বলেন, ‘আর ভালো কাজ করে কি হবে? ভালো কাজ করেও যদি ঠিকমতো টাকা না পাই তাহলে সংসার কেমন করে চলবে?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ