সংবাদদাতা, ডোমকল: ডোমকলে সমবায় সমিতিতে বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূলের ‘মিলিজুলি বোর্ড’ গঠনের অভিযোগ উঠল। নির্বাচনে না গিয়ে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে বোর্ডে থাকলেন তিন দলের সদস্যরাই। ডোমকলের মোক্তারপুর-বিলাসপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে মিলিজুলি বোর্ড গঠনের বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূল সবদলই মিলিজুলি বোর্ডের বিষয়টি মানতে নারাজ।
ডোমকলের মোক্তারপুর-বিলাসপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচন ছিল ১৮ মার্চ। ৮টি আসনের নির্বাচন ছিল ওইদিন। তবে অভিযোগ, তার আগেই ‘সমঝোতা’ হয়েছিল তিন দলের মধ্যেই। সেই সমঝোতা অনুসারেই ওইদিন নির্বাচনের দিকে হাঁটেনি কোনও দল। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আসন সমঝোতার মাধ্যমে সদস্যদের মনোনীত করে বোর্ডে জায়গা দেওয়া হবে। সেই মোতাবেক তৃণমূলের পাঁচ, সিপিএমের দুই ও কংগ্রেসের এক সদস্য বোর্ডে স্থান পান। সমবায় বোর্ড গঠনের পরে স্বাভাবিক ভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তৃণমূল। সমবায়ের সম্পাদকের দায়িত্ব পান তৃণমূলের জিন্নাত আলি। সভাপতি নির্বাচিত হন তৃণমূলের আঞ্জুমানয়ারা বিবি। সিপিএমের দুই ও কংগ্রেসের এক সদস্যও বোর্ডে জায়গা পেয়েছেন।
সমবায় সমিতির সম্পাদক জিন্নাত আলি বলেন, সিপিএম ও কংগ্রেস আমাদের কাছে এসে আসন সমঝোতার কথা অনেকদিন আগেই বলেছিল। সেই মোতাবেক আমরাও স্থানীয়ভাবে বসেছিলাম। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা ওইদিন আর নির্বাচনে লড়াই করিনি। পরিবর্তে সিলেকশনের মাধ্যমে সদস্যদের মনোনীত করা হয়। সিপিএমের দুই সদস্যও আমাকে সমর্থন করেন।
ওই সমবায়ের সিপিআইএম সদস্য ফেরেসতুল্লা মণ্ডল বলেন, আসলে এই সরকারের আমলে সমবায় সমিতির ভোট হয় না। ভোট করাতে গেলেও আদালতের চক্কর কাটতে হয়। তাই আমরা স্থানীয়রা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সিলেকশনের মাধ্যমে বোর্ড গঠন করা হোক। সেই মোতাবেক ওইদিন আমাকেও সদস্য হিসাবে মনোনীত করা হয়। তবে পুরো সিদ্ধান্তটি আমরা স্থানীয়ভাবে নিয়েছিলাম, আমাদের দলের কাউকে আমরা জানাইনি। ডোমকল ব্লক কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি ইমদাদুল হক মীর বলেন, সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এইভাবে সিলেকশনের মাধ্যমে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কংগ্রেস হিসেবে যাঁর নাম বলা হচ্ছে, তিনি কংগ্রেসের কেউ নন। বোর্ডের আট সদস্যই তৃণমূলের লোক।
সিপিএমের ডোমকল এরিয়া কমিটির সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, এই নির্বাচন সম্পর্কে ওই সমবায় কর্তৃপক্ষ দলীয়ভাবে আমাদের কিছু জানায়নি। আমরাও কিছু জানিও না। ওদের লোককেই সিপিএম সাজিয়েছে, আমাদের দলের কেউ সেখানে অংশগ্রহণ করেনি।
যদিও ডোমকল ব্লক তৃণমূল সভাপতি হাজিকুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক বোর্ড গঠন হয়েছে। কোনও অনিয়ম করা হয়নি। বোর্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আমরাই বোর্ড দখল করেছি। সভাপতি সম্পাদকও আমাদের। আর বাম, কংগ্রেসকে নিয়ে বোর্ড গঠন করার অভিযোগও সঠিক নয়।