নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এসআইআরের বৈধ নথি হিসাবে গ্রহণ করা হবে। এমনই আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে বুধবার এমনটাই জানানো হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল একাধিক দাবিতে সিইও-র সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটকে নথি হিসাবে গ্রহণযোগ্য করার জোরালো দাবি জানানো হয়। যার প্রেক্ষিতে মুখ্য সচিবের এই আশ্বাস বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে, দীর্ঘ তিন মাস এসআইআরের শুনানি শেষে শুরু হয়েছে তথ্য যাচাইয়ের কাজ। আর এই যাচাই পর্বে মিলছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। কোথাও দেখা যাচ্ছে, মুসলিম ভোটারের হিন্দু বাবা। কোথাও ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার পরও সেই ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখার জন্য দেওয়া হয়েছে ছাড়পত্র।
এমন নানা বিষয় নজরে এসেছে রোল অবজার্ভারদের। যার জেরে শাস্তির কোপে পড়তে পারেন আরও কয়েকজন এইআরও। সূত্র মারফত এমনটাই খবর। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভায় দেখা গিয়েছে, ভোটারের নাম শেখ রাজেশ আলি। তাঁর বাবার নাম ভুবনচন্দ্র বেরা। শুনানিতে জমা পড়া নথি সুপার চেকিংয়ে এমন তথ্যই রোল অবজার্ভারদের নজরে এসেছে। কিসের ভিত্তিতে ওই সম্পর্কের তথ্য আপলোড করেছেন এইআরও, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, কোনও তথ্য ছাড়াই সেই লিঙ্ক কী ভাবে করা হল? এই ঘটনায় দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন পর্যবেক্ষকেরা। অন্যদিকে, মৃত ভোটারকে চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকার জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারের ঘটনা। এইআরও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ। শহিদুল হক গাজি নামে এক ভোটারকে ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে ডাকা হয়। বাড়ির লোকজন শহিদুলের ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ জমা দিয়ে জানিয়ে যান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু রোল অবজারভারদের সঙ্গে মাইক্রো অবজারভার সুপার চেকিং করে মেলাতে গিয়ে দেখতে পান, এইআরও মৃত ব্যক্তিকেই ভোটার তালিকায় বৈধ ‘ভোটার’ বলে সবুজ সঙ্কেত দিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি নজরে আসতেই নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। কর্তব্যে গাফিলতির জন্য ইতিমধ্যেই কমিশনের রোষে পড়েছেন রাজ্যে সাত এইআইরও। এখন এসব রিপোর্ট জমা পড়লে, আরও অনেক আধিকারিক কমিশনের রোষের মুখে পড়তে পারেন বলে সূত্রের খবর। এছাড়াও জানা যাচ্ছে, নথি যাচাইয়ের পর এখনও যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটারের জমা পড়া নথি অবৈধ বলে গণ্য করেছে কমিশন। ফলে তাঁদের তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা।মূলত দু’ধরনের ভোটারকে এসআইআরের শুনানিতে নথি যাচাইয়ের জন্য ডেকেছিল কমিশন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁরা নিজেদের কোনও যোগ দেখাতে পারেননি (নো ম্যাপ ভোটার) তাঁদের শুনানিকেন্দ্রে সশরীরে হাজিরা দিয়ে উপযুক্ত নথি দেখাতে হয়েছে। এ ছাড়া, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে যোগ থাকা সত্ত্বেও, একাধিক গোলোযোগ থাকায় সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত করে অনেককে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিকেন্দ্রে তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন ইআরও, এইআরও এবং বিএলওরা। শুনানির সেই সমস্ত নথি অআপলোডের পর এখন এইসব তথ্য সামনে আসছে।