Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

পুরনো ফরম্যাটে ফিরুক ঘরোয়া লিগ: মিহির বসু

ঘরোয়া লিগ ঘিরে বাঙালি বরাবরই নস্টালজিক। একটা সময় লিগের ম্যাচে সবুজ ঘাসে স্ফুলিঙ্গ ছুটত। ময়দান জুড়ে উত্থান-পতন, হাসিকান্নার কোলাজ। কলকাতা লিগ বহু তারকার জন্মদাতা। অনেকেরই কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে জলকাদার ফুটবল। তাদের মধ্যে বাছাই করা তারকারা অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুললেন বর্তমানের পাঠকদের জন্য।

পুরনো ফরম্যাটে ফিরুক ঘরোয়া লিগ: মিহির বসু
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঘরোয়া লিগ ঘিরে বাঙালি বরাবরই নস্টালজিক। একটা সময় লিগের ম্যাচে সবুজ ঘাসে স্ফুলিঙ্গ ছুটত। ময়দান জুড়ে উত্থান-পতন, হাসিকান্নার কোলাজ। কলকাতা লিগ বহু তারকার জন্মদাতা। অনেকেরই কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে জলকাদার ফুটবল। তাদের মধ্যে বাছাই করা তারকারা অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুললেন বর্তমানের পাঠকদের জন্য।

Advertisement

‘মিহির বসু কোথায়? শুনলাম এখানে ক্রিকেট খেলছে ..।’ বলতে বলতেই গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন ইস্ট বেঙ্গলের দুই কর্তা। পল্টু দাস ও জীবন চক্রবর্তীকে দেখে মুহূর্তে ভিড় জমে যায়। আমিও বেশ অবাক। তখন চুটিয়ে ফুটবল খেলি। পাড়া ক্রিকেটেও বেশ নামডাক। বসিরহাট হাইস্কুল মাঠে এমনই এক ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন পল্টুদাদের আগমন। এরপর আমার বাড়িতে গিয়ে ইস্ট বেঙ্গলকে খেলার প্রস্তাব দেন তাঁরা। পাড়ার প্রায় সবাই মোহন বাগান সমর্থক। তাই আমার অবস্থা সহজেই অনুমেয়। শেষ পর্যন্ত পল্টুদাদের আন্তরিকতার কাছে সব বাধা হার মানে। বাড়ির সম্মতি নিয়ে ১৯৭৭ সালে সই করি ইস্ট বেঙ্গলে। শুরুতে কিছুটা টেনশন ছিল। তবে ঘরোয়া লিগের ডার্বির পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রায় পাঁচ দশক পেরিয়েও সেই স্মৃতি সমর্থকদের হৃদয়ে আজও টাটকা। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকা মোহন বাগানকে সেদিন ২-০ গোলে হারায় ইস্ট বেঙ্গল। সমরেশ চৌধুরি ছাড়াও জাল কাঁপায় এই অধম। ম্যাচের পর কাঁধে চাপিয়ে ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে পৌঁছে দেন সমর্থকরা। আমার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট এই ম্যাচ। অনেক বিখ্যাত ফুটবলারের মতোই ফুটবলার মিহির বসুকেও প্রতিষ্ঠা দেয় ঘরোয়া লিগ। অথচ সেই লিগই এখন বিবর্ণ, ফ্যাকাসে।  প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে লিগের পুরনো ফরম্যাট ফেরানোর দাবি জানাই। অন্তত কিছু সিনিয়র ফুটবলার ও বিদেশি খেলানো হোক। নির্দিষ্ট ক্যালন্ডার মেনে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত হোক কলকাতা লিগ। না হলে এরপর ঘরোয়া লিগের জায়গা হবে মিউজিয়ামে।
কেন আকর্ষণ হারাচ্ছে ঘরোয়া লিগ? আন্তরিকতা, পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। দর্শককে মাঠে টানার কোনও ইচ্ছাও নেই। ফেডারেশন থেকে আইএফএ, হতাশার ছবি সর্বত্র। ঘেরা মাঠে খেলা না ফিরলে ফুটবল শেষ। এই সহজ কথাটাই কেউ বোঝেন না। দক্ষ প্রশাসকের অভাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় সমস্যা। প্রথম একাদশে ৬ ভূমিপুত্র খেলানোর নিয়মও অর্থহীন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ছাড়া ফুটবলের মান কমতে বাধ্য। বিদেশি বন্ধের নির্বোধ সিদ্ধান্তও হাস্যকর। একেবারে তুলে দেওয়ার বদলে বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা কমানোই যেত। কে শোনে কার কথা? আসলে ঠান্ডা ঘরের কর্তাদের সঙ্গে মাঠের যোগ কম। বরং ক্ষমতা ব্যবহার করে চেয়ার দখলে ব্যস্ত তাঁরা। ক্লাব ফুটবলে জোর দেওয়ার বদলে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আইএসএল ছাড়া অন্য সবকিছুই নাকি গুরুত্বহীন। ডিসিএম, রোভার্স, নাগজি, স্ট্যাফোর্ড, কলিঙ্গ কাপের নাম শুনি না। কলকাতা লিগও তথৈবচ। এর চেয়ে কষ্টের কিছুই নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ