ঘরোয়া লিগ ঘিরে বাঙালি বরাবরই নস্টালজিক। একটা সময় লিগের ম্যাচে সবুজ ঘাসে স্ফুলিঙ্গ ছুটত। ময়দান জুড়ে উত্থান-পতন, হাসিকান্নার কোলাজ। কলকাতা লিগ বহু তারকার জন্মদাতা। অনেকেরই কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে জলকাদার ফুটবল। তাদের মধ্যে বাছাই করা তারকারা অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুললেন বর্তমানের পাঠকদের জন্য।
গত কয়েক মাস ধরে ভারতীয় দলে স্ট্রাইকারের অভাব নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। সকলেই বলছে, এখন নাকি দেশে আর দক্ষ গোলগেটার নেই। তাই অবসর নেওয়া ৪০ বছরের সুনীল ছেত্রীকেও ফিরিয়ে আনা হল। আমি কিন্তু এটা মানতে নারাজ। গোটা দেশের কথা বাদ দিলাম। আমাদের বাংলায় খুঁজলেই অনেক প্রতিভাবান স্ট্রাইকার পাওয়া যাবে। তাদের তুলে আনার জন্য সেরা মঞ্চ ঘরোয়া লিগ। এই প্রতিযোগিতা থেকেই তো আমি, শিশির (ঘোষ) জাতীয় দলে খেলেছি। মনে আছে, আমি তখন এরিয়ানে। ১৯৭৯ সালে সন্তোষ ট্রফিতে দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ভারতীয় দলে ডাক পাই। শুধু তাই নয়, বড় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর আগে তথাকথিত অপ্রধান দলের হয়ে চুটিয়ে খেলেছি। স্পোর্টিং ইউনিয়ানের জার্সিতেই আমার ঘরোয়া লিগে অভিষেক। তারপর খিদিরপুর, এরিয়ান হয়ে সই করি মোহন বাগানে। সেখান থেকে ইস্ট বেঙ্গল।
আমাদের সময় ঘরোয়া লিগ ছিল ফুটবলার উঠে আসার মঞ্চ। তবে মাঝে সেটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল গট আপের আখড়া। তাই হঠাৎ কলকাতা লিগে ভিনরাজ্যের খেলোয়াড়দের ভিড় জমেছিল। এর একমাত্র কারণ, এদের দিয়ে সহজেই ম্যাচের ফলে প্রভাব ফেলা যেত। তারপর আর সেই সকল ফুটবলারদের পাত্তা মিলত না। কিন্তু বাঙালি ফুটবলারদের দিয়ে সেটা সম্ভব নয়। তাই বর্তমানে ভূমিপুত্রের নিয়ম চালু হওয়ায় গট আপ অনেকটাই কমেছে। আর ফলও মিলছে হাতেনাতে। চলতি লিগেই তিন প্রধানকে টেক্কা দিয়েছে তথাকথিত অপ্রধান দলগুলি। শুধু তাই নয়, জাতীয় স্তরেও কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই আমাদের ছেলেরা। তার প্রমাণ সন্তোষ ট্রফিতে সাফল্য। অথচ ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও ইস্ট বেঙ্গল-মোহন বাগানে ব্রাত্য থাকে বাংলার ছেলেরা। সেই কেরল, মিজোরাম থেকেই ফুটবলাররা এসে লাল-হলুদ, সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে চাপাবে। সুতরাং, বাংলা থেকে ফুটবলার তুলে আনতে হলে সবার আগে তিনটি বড় ক্লাবকে এগিয়ে আসতে হবে। কেন তারা লিগের ম্যাচ নিজেদের মাঠে খেলবে না? আগে তিনটি ঘেরা মাঠে লিগের ম্যাচের এক আলাদা জৌলুস ছিল। বর্তমানে জেলায় ম্যাচ হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যেও সেই উন্মাদনা নেই। ফলে ভালো খেলার তাগিদও কমছে। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চেষ্টা না করলে বাংলার ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। আর তার জন্য প্রয়োজন কলকাতা লিগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।