নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: দীর্ঘদিন ধরেই কোচবিহারের বালাভূতে নদীতে গাঙ্গেয় প্রজাতির ডলফিনের দেখা মিলছিল। এবার সেই ডলফিনেরই উল্লেখ করা হল কেন্দ্রীয় রিপোর্টে। ফলে প্রত্যন্ত বালাভূত এলাকার গুরুত্ব কিন্তু অনেকটাই বেড়ে গেল। সেখানে তোর্সার পাশাপাশি কালজানি নদীতেও একই প্রজাতির ডলফিন থাকার বিষয়টি সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
বালাভূতে তোর্সা, কালজানি, গদাধর, রায়ডাক-১ ও ঘরঘরিয়া নদী এসে মিলেছে। সেখানেই ডলফিনের দর্শন মেলে। বর্ষার সময় এই ডলফিন বেশি দেখা যায়। তবে ওই এলাকা ডলফিনের স্থায়ী আবাস বলেই বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যান্য জায়গায় নদীতে বছরের অন্য সময় জল অনেকটা কমে গেলেও বালাভূতে জল এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বছরভরই থাকে। ফলে সেখানেই গড়ে উঠেছে গাঙ্গেয় ডলফিনের স্থায়ী আবাসস্থল। ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে সংযোগ বলেই ওই জায়গায় ডলফিন এসেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২১ সালের জুলাই মাসের শুরুর দিকে ডলফিন মারার একটি ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার ও মামলা চলছে বলে বনদপ্তর জানিয়েছে। কোনওভাবেই যাতে ডলফিন মারা না হয় তারজন্য বনদপ্তর প্রচারও চালাচ্ছে। বোর্ড লাগানো, নজরদারির জন্য টিম বানানো, কোনওরকম ঘটনা সামনে এলে সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার মতো কাজগুলি বনদপ্তর করছে।
কোচবিহারের ডিএফও অসিতাভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টে কোচবিহারে ডলফিনের উল্লেখ করা হয়েছে। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরাও এখানকার ডলফিন নিয়ে সর্তক রয়েছি। জেলার যে নদীগুলিতে ডলফিনের দেখা মেলে সেই সব জায়গায় আমাদের নিয়মিত নজরদারি চলছে।