নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: প্রথা মেনে আজ, শুক্রবার কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে দোলে মাতবেন সাধু ব্রহ্মচারীরা। তাতে ভক্তরাও অংশগ্রহণ করবেন। দোল উৎসবের আগে মঠের সমস্ত গেস্ট হাউসই ভর্তি হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্তরা আসছেন কামারপুকুরে। তাঁদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠের অধ্যক্ষ স্বামী লোকোত্তরানন্দজি মহারাজ বলেন, দোল উৎসবের পাশাপাশি আজ, মঠে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি পালন করা হবে। এবারও একইভাবে সব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভক্তরা বুকিং করে নিয়েছেন সব গেস্ট হাউসই। আবির মেখে খোল, করতাল ও বাদ্য যন্ত্র সহকারে মঠ চত্বর পরিক্রমা করা হয়। তাতে ভক্তরাও শামিল হন।
দোল উপলক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উৎসবের আমেজ। বাঙালি দোলে মেতে উঠতে পাড়ি দিচ্ছেন বিভিন্ন জায়গাতেও। একইভাবে পুণ্যার্থীরাও ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের পবিত্র জন্মস্থান কামারপুকুরেও আসছেন। ফি বছরই দোল উপলক্ষ্যে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। এবারও তার অন্যথা হবে না। ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে পর্যাপ্ত পুলিসও মোতায়েন করা হচ্ছে। মঠ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে সকাল ৯টা থেকে গান বাজনা শুরু হবে। ভক্তরা থালায় দেন আবির। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের সামনে সেই আবির নিবেদন করা হয়। একইভাবে রঘুবীরের সামনেও আবির নিবেদন করেন পূজারী। পরে ফের সেই আবির ভক্তরা নেন। মঠের সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারী, ভক্ত এবং গ্রামবাসীরা বাদ্য যন্ত্র সহকারে এলাকা পরিক্রমা করেন। তারসঙ্গে চলে হরির লুট। তাতে বাতাসার সঙ্গে লজেন্সও ছড়ানো হয়।
মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি উপলক্ষ্যে তাঁর জীবনী পাঠ আলোচনা করা হবে। তারসঙ্গে শ্রী শ্রী শ্যাম নাম সংকীর্তনও চলে। রাত পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে দোল উৎসব পালিত হয়। ভক্তরা কামারপুকুরের পাশাপাশি জয়রামবাটিতেও যান।
মঠের অধ্যক্ষ বলেন, দোলে আবির ব্যবহার করা হয়। রং ব্যবহার করতে আমরা নিষেধ করি। তাই এই উৎসবে বাইরে থেকে যেমন ভক্তরা আসেন। একইভাবে স্থানীয় বাসিন্দারাও আমাদের সঙ্গে শামিল হন। যথেষ্ট ভিড়ও হয়। উল্লেখ্য, বছরভর কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে ভক্তদের আনাগোনা চলতে থাকে। কল্পতরু, রামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথি উৎসবে ভিড় উপচে পড়ে। একইসঙ্গে দোল উৎসব ঘিরেও কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে ভক্তরা ভিড় করেন।