সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের মণিপুর সোনার মন্দিরে শুরু হল বাৎসরিক দোল মহামহোৎসব। বুধবার অধিবাসের মধ্যে দিয়ে মহারানি ধনমঞ্জুরী দেবী প্রতিষ্ঠিত শ্রীশ্রীমদ রাধাকৃষ্ণচন্দ্রদেব ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু জিউ মন্দিরে গৌর জন্ম মহোৎসবের সূচনা হয়। ১৪ মার্চ, শুক্রবার দোলপূর্ণিমা বা গৌরপূর্ণিমা। এদিন শ্রীমন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শুভ আবির্ভাব তিথি। সেই উপলক্ষ্যে নবদ্বীপের মণিপুর সোনার মন্দিরে ১২-১৪ মার্চ পর্যন্ত তিনদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য লীলাকীর্তন, হরিলীলা, লোকসঙ্গীত ও বাউল সঙ্গীতের অনুষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার সকালে মণিপুরের সোনার মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে মহাপ্রভু ও গুরুদেবের প্রতিকৃতি নিয়ে কীর্তন সহকারে সুসজ্জিত নগর পরিক্রমা বের হয়। মন্দিরে একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গৌরাঙ্গ আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ১০৮ ত্রিদণ্ডী স্বামী শ্রীশ্রীমদ ভক্তি শ্রবণ তীর্থ গোস্বামী মহারাজের ৯৯তম আবির্ভাব তিথি পূজা। সন্ধ্যায় কলকাতা নৃত্যাভাষ পারফর্মিং আর্ট পরিচালিত হরিলীলা পরিবেশন করেন সঞ্চয়িতা মুন্সি(সাহা)।
১৪ মার্চ সকালে গুরুদেব স্বামী শ্রীশ্রীমদ ভক্তি শ্রবণ তীর্থ গোস্বামী মহারাজের অভিষেক ও পুষ্পাঞ্জলি এবং ভোগ নিবেদন করা হবে। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় লোকসঙ্গীত ও বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করবেন বিশিষ্ট শিল্পী শম্পা বিশ্বাস।
নবদ্বীপ মণিপুর সোনার মন্দির এবং গৌরাঙ্গ আশ্রমের আচার্য মাধবীদাসী গোস্বামী বলেন, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে শ্রীগৌরাঙ্গ আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ১০৮ ত্রিদণ্ডী স্বামী শ্রীশ্রীমদ ভক্তি শ্রবণ তীর্থ গোস্বামী মহারাজের ৯৯তম আবির্ভাব তিথি পূজা। তিনি দোল পূর্ণিমা তিথিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেকারণেই একইসঙ্গে গুরুদেবকে স্মরণ করা হচ্ছে। গুরুদেবের ইচ্ছা ছিল নবদ্বীপ ধামে তাঁর এই মন্দিরটি আরও সুসজ্জিতভাবে সাজিয়ে তোলার। আগামি দিনে গুরুদেবের সেই ইচ্ছাই পূরণ করার চেষ্টা চালাচ্ছি। পাশাপাশি, এখানে বাইরের ভক্তরা এসে যাতে থাকতে পারেন, সেজন্য একটি গেস্ট হাউস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।