Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোয়ালতোড়ের রঘুনাথবাড়ি মন্দিরে দোল উৎসব ও মেলা

গোয়ালতোড়ের রঘুনাথবাড়ি মন্দিরে দোল উৎসব ও মেলা
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, গোয়ালতোড়: গোয়ালতোড়ের রঘুনাথবাড়ি মন্দিরে দোল উৎসব ও মেলা ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। রাধাকৃষ্ণের বিবাহ উপলক্ষ্যে পুরো এলাকার মানুষ উৎসবে মেতে ওঠেন। ভক্তদের মধ্যে ভোগপ্রসাদ বিলি করা হয়। ১০দিন ধরে মেলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাবেন। সেইসঙ্গে বৃহস্পতিবার শিলাবতী নদীর ওপারে কৃষ্ণনগরে চাঁচর উপলক্ষ্যে মানুষের ঢল নেমেছে। বগড়ী বিরাজিত শ্রীশ্রী ঈশ্বর কৃষ্ণরায় জিউ ঠাকুর দেবোত্তর ট্রাস্টের উদ্যোগে মেলা ও চাঁচর আয়োজিত হয়েছে।

Advertisement

এবছর মেলায় প্রায় ৫০০স্টল বসেছে। এই দোল উৎসব ও মেলার জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মেলায় লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়। ডোকরা, মাদুর, শাঁখা সহ নানা হস্তশিল্পীরা পসরা সাজিয়ে বসেন। মেদিনীপুর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মন্দির প্রাঙ্গণে শিলাবতী নদীর পাড় বাঁধানো হয়েছে। বহু প্রাচীন এই মন্দিরের রাজ্যব্যাপী জনপ্রিয়তা রয়েছে। মনে হচ্ছে, এবছর ভিড়ের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে যাবে।
আয়োজক ট্রাস্টের সম্পাদক বিকাশকুমার রায় বলেন, সবাইকে মন্দির ও মেলায় আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তবে মন্দিরে আসার প্রায় ৮০০মিটার লম্বা রাস্তার সংস্কার প্রয়োজন। কারণ, বর্ষায় ওই বেহাল রাস্তায় পর্যটকদের খুবই ভোগান্তি হয়।
১৩৯০ খ্রিস্টাব্দে গোয়ালতোড়ের কৃষ্ণনগরে প্রথম শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেসময় থেকে ওই কৃষ্ণমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামত। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পুজো দিতে আসতেন। শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের প্রায় ৭০বছর পর তৎকালীন রাজা রঘুনাথ সিংয়ের আমলে রাধিকা বিগ্রহ স্থাপিত হয়। এরপর ফাল্গুনী পূর্ণিমায় রাধাকৃষ্ণের বিবাহ উপলক্ষ্যে শিলাবতী নদীর দক্ষিণ পাশে রঘুনাথবাড়িতে বিশেষ পাথর দিয়ে দোলমন্দির গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানেই বহুবছর ধরে দোল উৎসব ও মেলা হচ্ছে। এখনও প্রাচীন প্রথা মেনে কৃষ্ণনগরের মন্দির থেকে পালকিতে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি রঘুনাথবাড়ির মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ১০দিন ধরে উৎসব চলে। উৎসব শেষে রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ ফের কৃষ্ণনগরের মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
ট্রাস্টের সভাপতি আলোকময় রায় বলেন, বছরের পর বছর ধরে রীতি মেনেই দোল উৎসব হয়। এত বড় মেলা আয়োজনে পুলিস ও প্রশাসন খুব সহযোগিতা করে। পূজার পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কাজও করেন ট্রাস্টের সদস্যরা। এই ট্রাস্টের তরফে করোনা সঙ্কটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রিলিফ ফান্ডে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয়। দুঃস্থ মানুষকে বস্ত্র বিতরণও করা হয়। ট্রাস্টের সদস্য সুদীপ রায় ও সেবাইত নিমাই রায় বলেন, কেউ বিপদে পড়লে ট্রাস্টের সদস্যরা পাশে দাঁড়ান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ